নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দিন যানবিভ্রাটের জেরে পরীক্ষা কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছাল বহু পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ছিল শিল্প ধর্মঘট। তার জেরে শহরে মিছিল বেরোয়। পথ অবরোধও হয়েছিল কিছু জায়গায়। কিছু ক্ষেত্রে বাসও কম ছিল বলে পরীক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও সার্বিকভাবে যানজটের অভিযোগ মেলার কথা স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে, স্কুলে সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা শুরুর অভিযোগে সোচ্চার ছিলেন বেশকিছু পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবক। একমাস পরীক্ষা এগিয়ে আনায় যে কম সময় মিলেছে, তাও স্বীকার করেছে সংসদ। যদিও, প্রথম দিনের পরীক্ষা ছিল মোটামুটি নির্বিঘ্ন।
সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা। আর ১০টা থেকে পরীক্ষা, বলা ভালো উত্তর লেখা শুরু। এদিন কলেজ স্ট্রিটের হেয়ার স্কুলে ১০টা ১০মিনিট, ১০টা ১৫ মিনিট, এমনকি, ১০টা ৩৫ মিনিটেও ঢুকতে দেখা গিয়েছে পরীক্ষার্থীদের। তারা কেউ জানাল বাস না-পাওয়ার কথা। আবার কেউ রাস্তায় আটকে পড়ার কথাও বলল। লি কলিনস স্কুলেও এক পরীক্ষার্থীকে প্রায় আধঘণ্টা বাদে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। সেও জানিয়েছে জ্যামে আটকে থাকার জন্যই এই বিপত্তি।
এদিন, সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য, সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিকরা সল্টলেকের ভগবতীদেবী বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা সিলেবাস শেষ না-হওয়া, পরীক্ষার সামান্য আগে বই পাওয়ার মতো অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন। যদিও সভাপতি এবং সচিব দুজনেই বই দেরিতে মেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তৃতীয় সেমেস্টারে সমস্যা ছিল ঠিকই। তবে, চতুর্থ সেমেস্টারে বই দেরিতে পাওয়ার কোনো কারণ নেই। অপ্রধান কোনো বিষয়ে সমস্যা হয়ে থাকলেও প্রধান বিষয়গুলি, বিশেষ করে বিজ্ঞানের বিষয়ের বই দেরিতে আসেনি। তবে, সময়াভাবে সিলেবাস শেষ হওয়া নিয়ে সমস্যা হয়েছে, তা তাঁরা মেনে নেন।
এদিন হাজিরা ছিল ৯৯ শতাংশ। তবে, মোবাইল ধরার পড়ার একটি ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানে। মালডাঙা আরএম ইনস্টিটিউশনের এক ছাত্রের সিট পড়েছিল সুতি কৃষ্ণমণি গার্লস হাইস্কুলে। তার কাছ থেকে কেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল উদ্ধার হয়। মেটাল ডিটেক্টরের তল্লাশি এড়িয়ে কীভাবে সেই ছাত্র মোবাইল নিয়ে ঢুকল! এ ভেবে অবাক সংসদও। যদিও, সভাপতি বলেন, অনভিপ্রেত ঘটনা। ঢুকতে পারার কথা নয়। তবে, যাঁরা তল্লাশির দায়িত্বে থাকেন, তাঁরা তো এ ব্যাপারে প্রশিক্ষিত নন। তাই, কোনোভাবে তল্লাশিতে এড়িয়ে যেতে পেরেছে সেই ছাত্র।