সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আজ, বুধবার থেকে ট্রেনের কামরায় হকারি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের জেরে গুরুত্বপূর্ণ জংশন রামপুরহাটে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৭০০হকার ও তাঁদের পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। ১ জুলাই কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে থেকেই আরপিএফ কড়াকড়ি ও জরিমানা শুরু করেছে বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ হকাররা পুনর্বাসন বা বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন হকার ইউনিয়ন রেলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে চলেছে।
আরপিএফের রামপুরহাটের ইন্সপেক্টর রণবীর কুমার বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। জরিমানার পাশাপাশি কেসও রুজু করা হচ্ছে।
রামপুরহাট জংশনে বিভিন্ন ইউনিয়ন মিলিয়ে প্রায় ৭০০ হকার রয়েছেন। কেউ চা, কেউ ঝালমুড়ি, ঘুগনি সহ নানা খাবার বিক্রি করেন। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা এই পেশায় যুক্ত। বর্তমানে আরপিএফ হকারদের স্টেশনে ঢুকতে দিচ্ছে না। কেউ লুকিয়ে ঢুকলে মোটা টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। রামপুরহাটের ১৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজয় রায় বহুবছর ধরে ট্রেনে ঘুগনি বিক্রি করতেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার আরপিএফ ধরে ফেলেছিল। দু’হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তবে ছেড়েছে। তারপর থেকে আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছি। বাড়িতে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। আয় বন্ধ হলে সংসার ও ছেলেমেয়ের পড়াশোনা কী ভাবে চালাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কড়াকড়ি সত্ত্বেও কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে এক বেলা এই কাজ চালিয়ে আসছেন। বছর ৫২’র কিসমত শেখ চা বিক্রি করে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ের মুখে অন্ন জোগান। বিশ্বভারতী ও ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের নিত্যযাত্রীদের অনেকেই তাঁকে একডাকে চেনেন। তিনি বলেন, আরপিএফ যখন তখন জরিমানা করছে। ভয়ে অনেকেই এখন কাজে যাচ্ছে না। মেয়ে এবার মাধ্যমিক দেবে। ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। তার উপর ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছি। সন্তানদের পড়াশোনা, সংসার ও ঋণের টাকা কীভাবে মেটাব, এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এমন পরিস্থিতিতে রামপুরহাটের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা কংগ্রেসের হকার ইউনিয়নের সম্পাদক রাজুপ্রসাদ ভকত অবসাদে ভুগছেন। তিনি ট্রেনে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। ছেলে সদ্য স্নাতক হয়েছেন। মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে পডাশোনা করে। রাজু বলেন, বুধবার থেকে হকারি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আতঙ্কে ভুগছি। বিকল্প ব্যবস্থার দাবিতে আরপিএফের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু, লাভ হয়নি। বলা হচ্ছে, হকারি করতে গিয়ে দু’বার ধরা পড়লে জরিমানা দিয়ে পার পাওয়া যাবে। কিন্তু তৃতীয়বার ধরা পড়লে সরাসরি গ্রেপ্তার ও একবছরের জেলের বিধান রয়েছে। হঠাৎ এমন নির্দেশে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোটাব, তা ভেবে পাচ্ছি না। সিটুর হকার ইউনিয়নের বীরভূম জেলা সম্পাদক সোহরাব শেখ বলেন, রেলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও পুনর্বাসনের দাবিতে খুব তাড়াতাড়ি বড় আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি চলছে।