Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাম্পে জ্বালানি পাচ্ছেন না বহু গ্রাহক! পেট্রল-ডিজেল নিয়ে কেন্দ্রের দাবি ও বাস্তবের ফারাক বাড়ছে ক্রমশ

মোদি সরকার আশ্বাস দিচ্ছে, পেট্রল- ডিজেলে কোনো সংকট নেই। কারণ, দেশে দুমাসের জ্বালানি মজুত আছে। তবে রান্নার গ্যাসের মতোই পেট্রল ও ডিজেলের ক্ষেত্রেও সরকারের দাবি ও বাস্তবের মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

পাম্পে জ্বালানি পাচ্ছেন না বহু গ্রাহক! পেট্রল-ডিজেল নিয়ে কেন্দ্রের দাবি ও বাস্তবের ফারাক বাড়ছে ক্রমশ
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোদি সরকার আশ্বাস দিচ্ছে, পেট্রল- ডিজেলে কোনো সংকট নেই। কারণ, দেশে দুমাসের জ্বালানি মজুত আছে। তবে রান্নার গ্যাসের মতোই পেট্রল ও ডিজেলের ক্ষেত্রেও সরকারের দাবি ও বাস্তবের মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকদের একাংশের দাবি, তাঁরা একাধিক পেট্রল পাম্পে তেল কিনতে গিয়ে ফিরে আসছেন। কারণ, পাম্পগুলিই বন্ধ! অনেকেরই অভিজ্ঞতা বলছে, বাড়ি বা কর্মস্থলের কাছে যে পাম্পে তাঁরা সাধারণত জ্বালানি কিনতে অভ্যস্ত, সেখানে মাঝেমধ্যেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে যেতে হচ্ছে দূরের পাম্পে। তাহলে কি সত্যিই জ্বালানির সংকট রয়েছে? ডিলারদের বক্তব্য, সরকার তেল বিক্রয়ের যে নীতি নিয়েছে, তাতে পাম্প বন্ধ হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়।
কেন্দ্রীয় সরকার বারবার প্রচার করছে, জ্বালানি নিয়ে কোনো প্যানিক নয়। কারণ জ্বালানির ভাণ্ডার যথেষ্ট মজবুত। ডিলারদের বক্তব্য, সত্যিই যদি জ্বালানির ভাণ্ডার ভালো অবস্থায় থাকে, তাহলে পাম্পে জ্বালানি থাকবে না কেন? জ্বালানি কিনতে গিয়ে পাম্প বন্ধ দেখলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়াই স্বাভাবিক। সরকার যদি সত্যিই প্যানিক আটকাতে চায়, তাহলে সেইমতো পদক্ষেপ করা উচিত। বরং সরকার যা করছে, 
তাতে আশঙ্কা কমার বদলে, তা বেড়ে যেতে বাধ্য।  
সরকার কী পদক্ষেপ করছে? ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ হাজরা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি পাম্প মালিকদের অন্তত পাঁচদিনের ‘ক্রেডিট’ বা ধারে তেল কেনার সুযোগ দিত। সেই সুবিধা তুলে দেওয়া হয়েছে। যেসব পাম্প ওই সুবিধার উপর নির্ভরশীল ছিল, তারা তেল তুলতে পারছে না। স্বাভাবিক কারণেই পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে, দুপুর ১২টার পর ডিপোগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, যেসব পাম্প সেই সময়ের মধ্যে তেল কিনতে পারছে না, সেগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই পাম্পে তেল আনার জন্য ট্রান্সপোর্ট সংস্থার ট্যাঙ্কারের উপর নির্ভরশীল হতে হয় ডিলারদের। ডিপো থেকে তেল এনে একটি পাম্পে দেওয়ার পর, দ্বিতীয়বার সেই ট্যাঙ্কার যখন আরো একটি পাম্পে তেলের জোগান দেওয়ার জন্য ডিপোয় যাচ্ছে, ততক্ষণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেখানকার দরজা। ফলে জ্বালানি পাচ্ছে না দ্বিতীয় পাম্পটি।
ডিলারদের প্রশ্ন, জ্বালানির জোগান যদি সুষ্ঠুই থাকে, তাহলে এসব নিয়ম জারি করার দরকার কী? সরকার যদি নিজের দাবির সঙ্গে নিজেই সাযুজ্য না রাখে, তাহলে গ্রাহকদের মধ্যে প্যানিক তৈরি হতে বাধ্য। তাঁদের কথায়, ছুটি ও অর্থবর্ষ শেষের কারণে আগামী কয়েকদিন ব্যাংকে সুষ্ঠু লেনদেনে ব্যাঘাত ঘটবে। সেক্ষেত্রে ডিলাররা আরো সমস্যায় পড়বেন। 
রান্নার গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে নাকানিচোবানি খাওয়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ তারা দাবি করছে, কোথাও কোনো সমস্যা নেই, জোগানে কোনো সমস্যা নেই। সিলিন্ডার নিয়ে সরকারের দাবি ও বাস্তবের সঙ্গে যেমন কোনো মিল নেই, তেমনই পেট্রল-ডিজেলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এমনটাই দাবি করছেন গ্রাহকদের একাংশ। 

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ