


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু শিল্পাঞ্চলের জন্য নতুন কোনো দিশা দেখাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার আসানসোল পোলো স্টেডিয়ামে বিজেপির সভায় তাঁর বক্তব্যে উঠে এল- ২০১৪, ২০১৯সালের দেওয়া পুরনো কথাই। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের কারখানা বন্ধ নিয়ে সরব হলেও কারখানা খোলা নিয়ে কোনো দিশা দেখাতে পারলেন না। কয়লাখনি অঞ্চল সিন্ডিকেটের অধীনে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘কয়লার কালোবাজারি হচ্ছে।’ কেন্দ্রীয় সংস্থার ইসিএলে কয়লার কালোবাজারি থামানো নিয়েও কোনো সুস্পষ্ট বার্তা দিতে পারেননি তিনি। রেল, সেইলের শূন্যপদ পূরণ নিয়েও মোদি কোনও কথা বলেননি। তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেই দায় সেরেছেন তিনি। যা নিয়ে হতাশ শিল্পাঞ্চলবাসী।
পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল আসানসোলের অদূরে নিঘা মাঠে এসেছিলেন মোদি। সেবার এখানকার জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, রাজ্যের গুণ্ডাদের ছাড়া হবে না। মাফিয়াদের হিসাব নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাসের পাঁচ বছর পার। আসানসোল সিবিআই আদালতে চলা কয়লা মামলা এখন ঠান্ডা ঘরে। কোনো অভিযুক্তই আর গারদে নেই। পাঁচ বছর পর ফের আসানসোলে এসে বালি ও কয়লা মাফিয়াদের উদ্দেশে একই হুঁশিয়ারি দিলেন। সেবারও আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কারখানা খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুব প্রজন্মের মুখে হাসি ফোটাননি। এবারও আসানসোলে এসে কোনো বন্ধ কারখানা খোলা, বন্ধ কয়লাখনি চালু করার কথা জানাতে পারেননি তিনি। পুরনো কথাই আওড়ানোয় স্বাভাবিকভাবে হতাশ শিল্পাঞ্চলের যুব সমাজ। ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পরও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, শিল্পাঞ্চলে পানীয় জলের সংকট রয়েছে। দূষণের সমস্যা রয়েছে। অথচ জল জীবন মিশনে তাঁর সরকার যে বাংলাকে টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে সেই বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অবৈধ কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য ধস নামছে। বিজেপি সরকার হলে শিল্পাঞ্চলের সমস্যা দূর হবে।’
খনি অঞ্চলের ধস মারাত্মক সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন পুনর্বাসন পেলেন না সাধারণ মানুষ সেকথা বেমালুম চেপে গিয়েছেন মোদি। মোদি বলেন, ‘আসানসোল, দুর্গাপুর মেগা সিটি হওয়ার ক্ষমতা রাখে।’ কিন্তু কেন্দ্র তারজন্য আর্থিক বরাদ্দ করেনি বলে শাসকদল তৃণমূলের অভিযোগ। এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি অগ্নিমিত্রা পল সহ পশ্চিম বর্ধমান জেলার সবকটি বিধানসভা আসনের প্রার্থী। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান লাগোয়া বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমানের কিছু বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরাও।
প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের বিজেপিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। লোকো মাঠে হেলিপ্যাডেও মহিলা কার্যকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। কিন্তু মোদির সভায় আসা প্রমীলা ব্রিগেডও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাব কাটানো যাবে কিনা তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন। মোদির সভায় সামনের সারিতে বসেছিলেন নিশা বার্নওয়াল। তিনি বলেন, বাঙালি মেয়েরা ১৫০০টাকাতেই মজে আছে। ওদের পরিবর্তন হবে কিনা সন্দেহ আছে। মেয়েকে নিয়ে মোজিদির সভায় এসেছিলেন সন্ধ্যা ভর্মা। তাঁর শ্বশুরবাড়ি উত্তরপ্রদেশে। বাপেরবাড়ি আসানসোলে। তিনি বলেন, বিজেপিকে এবার বাংলায় ক্ষমতায় আনতেই হবে। এখানেও ইউপির মতো উন্নয়ন প্রয়োজন। কেন তিনি আসানসোলে? সন্ধ্যাদেবী বলেন, শ্বশুরবাড়িতে অনেক দূরে কলেজ। আসানসোলে তো কাছেই স্কুল-কলেজ তাই এখানে থাকি। তৃণমূল নেতা মলয় ঘটক বলেন, মানুষ বিজেপিকে ভরসা করে না।