Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অ্যাডমিট পেয়েও উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টারে বসল না বহু পরীক্ষার্থী

সোমবার পার্ট-১ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অর্থাৎ তৃতীয় সেমেস্টারের প্রথমদিন ছিল।

অ্যাডমিট পেয়েও উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টারে বসল না বহু পরীক্ষার্থী
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সোমবার পার্ট-১ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অর্থাৎ তৃতীয় সেমেস্টারের প্রথমদিন ছিল। একপ্রকার সুষ্ঠুভাবেই জেলায় প্রথমদিনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মোট ৯৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী। তবে তিন শতাংশ পরীক্ষার্থী এদিন অনুপস্থিত ছিল। তবে সঠিক কী কারণে এই সংখ্যক পরীক্ষার্থীরা অনুপস্থিত ছিল তা অবশ্য এখনই স্পষ্ট নয়। স্বাভাবিকভাবেই ওই পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ইস্যুতে জেলার শিক্ষকমহলে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও জেলা উচ্চ মাধ্যমিকের যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিৎ নন্দন বলেন, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একাধিক কারণে প্রতি বছরই একটা অংশের পড়ুয়া অনুপস্থিত থাকে। এবছর মাত্র তিন শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর অনুপস্থিতির হার তুলনামূলক কম। তবে সঠিক কী কারণে এবছর তিন শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

প্রথমদিন ছিল বাংলা পরীক্ষা। সেমেস্টার পদ্ধতি অনুসরণে এবছরই প্রথম রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা ওএমআর শিটে পরীক্ষা দিল। চলতি শিক্ষাবর্ষে জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৬০। এর মধ্যে জেলার ৯০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ২৪ হাজার ৯৭৭জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। যদিও তিন শতাংশ পরীক্ষার্থী প্রথমদিনই অনুপস্থিত ছিল। শিক্ষকমহলের একটা অংশের আশঙ্কা, ওই তিন শতাংশ পড়ুয়া স্কুলের গণ্ডি থেকে শতহস্ত দূরে চলে গিয়েছে। এককথায়, স্কুলছুট হয়েছে। তবে সঠিক কারণ কী তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর একটা অংশ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও বাল্যবিবাহের আশঙ্কাও রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন, পড়ুয়াদের জন্য রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও স্কুল ছুটে কেন ইতি পড়ছে না? ঘটনায় শিক্ষকমহলের একটা অংশের দাবি, অভিভাবকমহলের মধ্যে এনিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্কুল শিক্ষক সন্দীপন রায় বলেন, একাধিক কারণে বহু পড়ুয়া তাঁদের পড়াশোনা শেষ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায় একটা অংশের পড়ুয়ারা আচমকাই স্কুল ছুট হয়ে পড়েছে। ফলত শেষ পর্যন্ত স্কুল জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দেওয়া হয় না। এটা সত্যিই বেদনাদায়ক। এমনকী, উদ্বেগরও কারণ। আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অপর এক শিক্ষক পার্থসারথী ঘোষ বলেন, তৃতীয় সেমেস্টারে অনুপস্থিত থাকলেও পরীক্ষার্থীরা চতুর্থ সেমেস্টারে পরীক্ষা দিতে পারবে। এক্ষেত্রে তাদের একটা সম্পূর্ণ বছর নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে অবশ্য স্কুলগুলিকে উদ্যোগ নিতে হবে। আশা করছি, পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ খুঁজতে প্রায় প্রতিটি স্কুলই আসরে নামবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ