


নিজস্ব প্রতিনিধি, স্বরূপনগর: এসআইআর শুরুর পর সম্প্রতি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশব্যাক’ করছে বিএসএফ। কিন্তু এর আগেই সীমান্তের বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চলে গিয়েছেন ওপারে। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর সীমান্তের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উধাও বহু পরিবার। স্থানীয়রা বলছেন, যাঁরা পালিয়েছেন তাঁরা বাংলাদেশি। প্রত্যেকেই দালাল ধরে এখানে এসেছিলেন। সীমান্ত এলাকায় তাঁরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে শুরু করেন। কেউ ছিলেন দিনমজুর, কেউ চোরাচালানে যুক্ত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পালিয়েছেন!
সোনাই ও ইছামতী নদী ১৯৭১ সালের শরণার্থী স্রোত দেখেছে। তবে এলাকার জনবিন্যাস বদলাতে শুরু করে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য। বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে কেউবা এপারে স্বরূপনগরে এসে অস্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন। সিংহভাগ মানুষ সীমান্তের এই ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে বেছে নেন। আর অবৈধভাবে বাস করা এমন একাধিক পরিবারের সন্ধান মিলেছে। যাঁরা এসআইআর পর্বের কড়াকড়ির আগেই বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন। তবে এই ব্লকে নিখোঁজ পরিবারের সংখ্যা কমবেশি কয়েকশো হবে বলেই দাবি স্থানীয়দের। কোন কোন এলাকায় এই অনুপ্রবেশকারীরা থাকতেন? বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, মূলত সীমান্তে চারটি অঞ্চলে এই সব অনুপ্রবেশকারী পরিবার ছিল। সীমান্তে অবস্থিত বিথারি-হাকিমপুর, গোবিন্দপুর, বালতি-নিত্যানন্দকাটি ও কৈজুরি পঞ্চায়েতে বাংলাদেশিদের আনাগোনা বেশি। তাঁরা দিনমজুরের কাজ করতেন এলাকায়। বর্তমানে সিংহভাগ বাংলাদেশি সর্বস্ব গুটিয়ে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারহীন এলাকা দিয়ে পালিয়েছেন। কিন্তু কারও মেলেনি সরকারি কোনও নথি।
স্থানীয় একটি সূত্রের খবর, বিথারি পঞ্চায়েতের তারালি, হাকিমপুর, দাহারকান্দা, পবনকাটি এলাকায় একাধিক পরিবার উধাও। গোবিন্দপুর পঞ্চায়েতের গুণরাজপুর, গোবিন্দপুর, গোবরাতেও একই চিত্র। পাশাপাশি বালতি-নিত্যানন্দকাটি পঞ্চায়েতের আমুদিয়া, খলসি, নবাতকাটি, নিত্যানন্দকাটি, চিতারু ও মল্লিকপুরেও অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে বাস তুলে দিয়েছেন। পাশাপাশি সীমান্তের অপর পঞ্চায়েতের দবিলা, কৈজুরি, সোনপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের একাধিক পরিবার পলাতক। প্রতিটি বাড়িতেই ঝুলছে তালা। তবে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানাচ্ছে, এরা দিনমজুরের পাশাপাশি চোরা চালানোর কাজেও যুক্ত ছিল। মাঝেমধ্যে তাদের গ্রেফতারও করত বিএসএফ। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন্দ্র দাস বলেন, এই অনুপ্রবেশ নতুন নয়। এসআইআর পর্ব চালু হতেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। স্বরূপনগর ব্লকে বাংলাদেশিরা থাকত দিনমজুর হিসেবে। সংখ্যাটা কয়েকশো হতে পারে। এক তৃণমূল নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলছেন, সিংহভাগ মানুষ পালিয়ে গিয়েছে। তারপরেও যাঁরা ঝুঁকি নিয়েছিলেন তাঁরা কাঁটাতার না থাকা এলাকা দিয়ে রাতে পালাচ্ছে। তবে, বাংলাদেশিদের থাকার চারটি পঞ্চায়েত এলাকার পরিবারগুলি চলে গিয়েছে। নিজস্ব চিত্র