


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘অনেকেই এমবিবিএস ডিগ্রি পেয়ে যাচ্ছেন, অথচ সামান্য সিজারই করতে পারছেন না।’ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এমনই বিস্ফোরক উক্তি করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ স্বপন সোরেন। এদিন স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের প্রকোপ নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল এনআরএস-এর মেডিক্যাল এডুকেশন ডে সেলিব্রেশন কমিটি। সেখানেই এই কথা বলেন স্বপনবাবু।
মঞ্চে তখন স্বাস্থ্যকর্তাদের যেন চাঁদের হাট! কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপাররা উপস্থিত। ছিলেন প্রাক্তন ও বর্তমান স্বাস্থ্য অধিকর্তাও (শিক্ষা)। অন্যদিকে, অডিটোরিয়ামে দর্শকাসনেও বসে বিভিন্ন বয়সের বহু চিকিৎসক। স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, ‘অনেকেই ইন্টার্নশিপ শেষ করেছেন। ডিগ্রিও পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কাজ করতে পারছেন না। এমন অনেক জুনিয়র চিকিৎসককে দেখতে পাচ্ছি, যাঁরা প্রসূতি মায়ের লেবার পেন হচ্ছে কিন্তু লেবার রুম থেকে দৌড়ে পালাচ্ছেন!’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবার কাছে অনুরোধ, জুনিয়র ডাক্তারদের হাতেকলমে কাজ শেখান। একজন জুনিয়র চিকিৎসক এসে বলছেন, আমি সিজার করতে পারছি না। এমনটা চলতে দেওয়া যায় না। ভুলে গেলে চলবে না, একদিন এঁদের কাছেই আমাদের বাড়ির লোকজনকে পাঠাব। কিন্তু কীভাবে নিয়ে যাব? তাছাড়া ভবিষ্যত প্রজন্মের কথাও তো মনে রাখতে হবে। আর একটি কথা হল, ভালো করে না দেখে কারও ইন্টার্নশিপ সার্টিফিকেটে সই করবেন না। মেডিক্যাল এডুকেশন ডে সেলিব্রেশন কমিটির সভাপতি ডাঃ অভিজিৎ ভক্ত বলেন, ‘প্রফেসর ডাঃ সমর মিত্র, প্রফেসর ডাঃ ভবেশ লাহিড়ি, প্রফেসর ডাঃ অবনী রায়চৌধুরীর মতো শিক্ষক এখন কোথায়? শুধু তত্ত্বকথা নয়, হাতেকলমে কাজ করবার উপযোগী ডাক্তারি শিক্ষার এখন খুব দরকার।’ মঞ্চে উপস্থিত এক পদস্থ স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন এখন ডাক্তারি পঠনপাঠনের প্যাটার্নটাই পাল্টে দিয়েছে। ডাক্তারি পড়াশোনার মূল সুর হল কম্পিটেন্সি বেসড মেডিক্যাল এডুকেশন। কাজের জায়গায় কে কত থিয়োরিতে পোক্ত, তা জাহির করে লাভ নেই। দরকার হাতেকলমের কাজে দক্ষতা যাচাই করা। তাঁরা আদৌ কতটা কম্পিটেন্ট বা যোগ্য।’