নয়াদিল্লি: কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে ধর্ষণ মামলা দমিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিজেপির তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনই অভিযোগ তোলা হয়েছে। পদ্মশিবিরের দাবি, ভগবন্ত মানের নেতৃত্বে এই চক্র চালানো হচ্ছিল। আর সেই র্যাকেটের টাকা পৌঁছে যেত পাঞ্জাবের ‘সুপার মুখ্যমন্ত্রী’ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছেও।
কী দাবি করছে বিজেপি? দলের জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি একটি অডিয়ো ক্লিপ সামনে এনেছেন। তাতে শোনা যাচ্ছে, কেউ একজন নিজের রাজনৈতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে ধর্ষণ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক মামলা দমিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন। যদিও সেই অডিয়ো ক্লিপের কোথাও মান বা তাঁর স্ত্রী গুরপ্রীত কাউরের কথা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ভান্ডারি স্পষ্ট বলেন, ‘ভগবন্ত মান এবং তাঁর স্ত্রী লুট ও দুর্নীতির র্যাকেট চালাচ্ছেন। তাঁরা মিডলম্যানকে কাজে লাগিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৫ কোটি টাকা চেয়েছেন।’
জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক আগে এক পাঞ্জাবি ইউটিউবার গুরবিন্দর সিং চাহাল জেল থেকে ছাড়া পায়। তাঁর বিরুদ্ধে এক মহিলাকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির দাবি, অভিযুক্তের জামিনের পিছনে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে শিরোমণি অকালি দল। ক’দিন আগেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফেও মানের স্ত্রী গুরপ্রীতকে নোটিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ধর্ষককে ছাড়ানোর জন্য ৫ কোটি টাকা দাবি করেন। ঘটনাচক্রে ইউটিউবার চাহালই আদালতের দাবি করেন, অমরদীপ সিং গ্রেওয়ালে নামে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বেশ কয়েক কোটি টাকা দাবি করেছিল। ওই আরজিতে আরও বলা হয়, গ্রেওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই থেকেই চাহালের মামলা নিয়ে নানা মহলে চাপানউতোর চলছে। বিজেপি দাবি করেছে, গ্রেওয়াল মিডলম্যান হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে কাজ করেছেন। আর অডিয়ো ক্লিপিংয়ের গলা গ্রেওয়ালেরই।