নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুন্দরবন না বাঁচলে অচিরেই ধ্বংস হবে কলকাতা। বার বার পরিবেশবিদেরা একথা বলে আসছেন। তাঁদের দাবি, আয়লা, বুলবুল, উম-পুন, যশ কিংবা ঘূর্ণিঝড় দানার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সুন্দরবন গোটা রাজ্যকে রক্ষা করেছে। এর কারণ গরান, গেঁওয়া, বাইন, কেওড়া, সুন্দরী গাছের অরণ্য। কিন্তু হোটেল, রিসর্ট বা ভেড়ি তৈরির জন্য যেভাবে নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ কাটা হচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাঁদের। আর সুন্দরবনে নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ কাটাকে কেন্দ্র করে এবার মামলা দায়ের হল হাইকোর্ট। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী দেবজ্যোতি দেব। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রক্ষায় আগেই পদক্ষেপ করেছিল হাইকোর্ট। সুন্দরবন বলে চিহ্নিত এলাকা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সবরকম কার্যকলাপে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণণের ডিভিশন বেঞ্চ। দুই ২৪ পরগনার জেলাশাসক ও পুলিস সুপারদের ওই নির্দেশ কার্যকর করতে বলেছিল আদালত। দিনকয়েক কড়া নজরদারি চললেও ফের বিঘার পর বিঘা ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলে তৈরি হচ্ছে চিংড়ি চাষের ভেড়ি। দেবজ্যোতি দেবের কথা, বিশেষত কুমিরমারি এলাকার পরিস্থিতি শোচনীয়।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বছরে পাঁচ কোটি করে ম্যানগ্রোভ রোপণ করার কথা বলা হয়। কিন্তু তার বদলে ফের শুরু হয়েছে ম্যানগ্রোভ নিধন পর্ব। আগামী সপ্তাহেই মামলার শুনানি।