Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুলি পোকার উপদ্রব, আমের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন মুর্শিদাবাদ জেলার কৃষকরা

এপ্রিল মাসের শুরু থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার আমবাগানগুলিতে শুলি পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। শুলি পোকার উপদ্রবে আমের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

শুলি পোকার উপদ্রব, আমের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন মুর্শিদাবাদ জেলার কৃষকরা
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: এপ্রিল মাসের শুরু থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার আমবাগানগুলিতে শুলি পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। শুলি পোকার উপদ্রবে আমের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। রাতে এই শুলি পোকার দমন করতে রীতিমত নাজেহাল অবস্থা তাঁদের। আম চাষিরা বলেন, আমের ক্ষতিকারক এই পোকার দমনে এখনও পর্যন্ত সেইভাবে উপায় পাওয়া যায়নি। কাজেই পোকার আক্রমণে আমের ক্ষতি হলেও আম চাষিদের সেভাবে কিছু করার থাকছে না। জেলা উদ্যানপালন দপ্তর থেকে শুলি পোকা আক্রান্ত আম নষ্ট করার পাশাপাশি কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

শতাধিক প্রজাতির সুস্বাদু আমের জন্য নবাবি মুলুক মুর্শিদাবাদের দেশ জোড়া খ্যাতি রয়েছে। জেলার প্রায় সব মহকুমায় আমের বাগান থাকলেও লালবাগ মহকুমায় আমবাগানের আধিক্য রয়েছে। চলতি বছরে একটু দেরিতে হলেও আমবাগানগুলি মুকুলে ভরে ওঠে। আম চাষিদের বক্তব্য অনুযায়ী, গাছে গাছে মুকুলের সম্ভার দেখে আমের প্রচুর ফলন অর্থাৎ অন ইয়ারের আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেন তারা। কুয়াশামুক্ত রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় আমের মুকুলের ক্ষতিকারক শোষক পোকার উপদ্রব সেভাবে ছিলনা। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে এপ্রিল মাসের প্রথম থেকে শুলি পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে । লালবাগ এবং জিয়াগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকজন আম চাষি বলেন, সাধারণত মার্চ মাসের প্রথম দিকে অর্থাৎ আম ডাম্বেল সাইজ হওয়ার পরেই শুলি পোকার উপদ্রব দেখা দেয় । কিন্তু এবছরে মার্চ মাসে শুলি পোকার উপদ্রব না হওয়ায় মনে হয়েছিল এযাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। কিন্তু এপ্রিল মাস পড়তেই শুলি পোকার উপদ্রব শুরু হয়েছে। আম চাষি বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, নিশাচর এই পোকা আম চাষিদের চোখকে ফাঁকি দিতে দিনের বেলায় ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে। সন্ধ্যা নামতেই ঝোপঝাড় থেকে বেরিয়ে আসে। ডিম পাড়ার জন্য আমকে বেছে নেয়। নির্দিষ্ট সময় পরে আমের ভিতরে লার্ভার জন্ম হয়। এই লার্ভাই আমের আঁটি খেয়ে নেয়। এইভাবে লার্ভা আমের থোকার সব আমকেই নষ্ট করে দেয়। উদ্যান পালন দপ্তর থেকে পোকা এবং পোকার লার্ভা দমনে পরামর্শ ও ওষুধের নিদান দিলেও বাইরে থেকে দেখা যায় না বলে আম চাষিরা এখন পর্যন্ত পোকার বিরুদ্ধে সেইভাবে লড়াই করতে পারছে না। মুর্শিদাবাদ জেলা উদ্যান পালন দপ্তর আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহী বলেন, দেখা মাত্রই আক্রান্ত আমটিকে থোকা থেকে সরিয়ে দিয়ে নষ্ট করে দিতে হবে। এছাড়া সংক্রমণ রুখতে ডাইক্লোরোফক্স বা ফেনথিয়ন নির্দিষ্ট পরিমাণ জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ