সৌম্যজিৎ সাহা দক্ষিণ ২৪ পরগনা
সৌম্যজিৎ সাহা দক্ষিণ ২৪ পরগনা
নিত্যনতুন থিম নিয়ে হাজির হচ্ছে ভাঙড়ের পুজো কমিটিগুলিও। ভারতের বিখ্যাত মন্দিরগুলির মধ্যে কয়েকটিকে তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। পাশাপাশি অভিনব ভাবনায় চমক দিতেও প্রস্তুত কেউ কেউ। সব মিলিয়ে শহর, জেলার দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে কোমর বেঁধে নেমেছে কলকাতা ও নিউটাউন লাগোয়া একাধিক পুজো কমিটি।
কাশীপুরের শতধারা প্রমিলা সঙ্ঘের পুজো এবার ১০ বছরে। তাদের ভাবনা ‘ঐতিহ্যের অঙ্গন— রাজশ্রী’। উদ্যোক্তাদের দাবি, বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যই এবছর বাঙালির এই শ্রেষ্ঠ উৎসবে তুলে ধরা হবে। বাঙালি সংস্কৃতির যা কিছু মঙ্গলময়, ঐতিহ্যশালী নিদর্শন এবং প্রতীক আছে, যেমন গাছকৌটো, বরণ ডালা, পঞ্চ প্রদীপ, শঙ্খ, ঘণ্টা, ধুনুচি,
মঙ্গল প্রদীপ– ইত্যাদি মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হবে। এই সংস্কৃতিরই
বিভিন্ন তৈলচিত্র দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হবে। থিম শিল্পী পলাশ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এখানে মা দুর্গা রাজকীয় অঙ্গনে রাজশ্রী রূপে বিরাজ করবেন। কাঠ, প্লাই, রঙ, কড়ি প্রভৃতি দিয়ে তৈরি হচ্ছে রাজবাড়ি। একচালা প্রতিমা তৈরি করছেন রাজারহাটের শিল্পী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস।
মাতৃপক্ষে পিতৃ আরাধনা করছে কাশীপুর সর্বজনীন মন্দির উন্নয়ন কমিটি। ৬৫তম বর্ষে এটাই তাদের ভাবনা। পুজো কমিটির সম্পাদক পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সংসারে বাবাদের অবদান, কর্মজীবন, দায়িত্ব ফুটিয়ে তোলা হবে। একটি সংসারে মায়ের মতো বাবার গুরুত্বও অসীম। বিশেষত পুজোর সময়ে আমরা মাতৃশক্তি নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু পুরুষদের অবদানও ভুললে চলবে না। সেটাই মণ্ডপে দেখানো হবে। এই পুজোর বাজেট প্রায় তিন লক্ষ টাকা। চতুর্থীতে পুজোর উদ্বোধনের পরিকল্পনা নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে ভাঙড় আমরা সবাই পরিচালিত দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। এবারে তাদের ৫৪ তম বর্ষ। পুজো কমিটির সম্পাদক সুব্রত সাহা বলেন, সাড়ে চার লক্ষ টাকার বাজেটে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। প্রতিমা হচ্ছে রুদ্রাণী রূপে। অর্থাৎ, সমাজে এখন যা হচ্ছে তার জন্য মা এই রূপ ধারণ করেছেন। ষষ্ঠীর দিন উদ্বোধনের কথা। আলোতেও নতুনত্ব থাকবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
বোদরা বাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি এবার ১০৪ তম বছরে পদার্পণ করল। বদ্রীনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সৌমেন দাস বলেন, দর্শনার্থীরা এখানে এক টুকরো বদ্রীনাথকে দেখতে পাবেন। তেমন পরিবেশ তৈরি করা হবে। চন্দননগরের আলো দিয়ে মুড়ে ফেলা হবে গোটা এলাকা। প্রায় সাড়ে নয় লক্ষ টাকার বাজেট ধরা হয়েছে এই পুজোয়। দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে নটরাজের আদলে।
কালিকাপুর মায়ের আশ্রম এবার ৭৩ তম বছরে পা দিল। করানোর পর থেকে তারা কোনও মণ্ডপ তৈরি করে পুজো করে না। পরিবর্তে একটি মন্দির তৈরি করা হয়েছে, সেখানেই মা দুর্গার আরাধনা করা হয়। পুজো কমিটির সম্পাদক পূর্ণেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ৭৫তম বছরে ভালো মণ্ডপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবারের বাজেট ৮ লক্ষ টাকার। পঞ্চমীর দিন উদ্বোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
৭৯ তম বর্ষে চন্দনেশ্বর দুর্গাপুজো কমিটির ভাবনা ‘ঐতিহ্য’। যেখানে পুরনো ও নতুনের মেলবন্ধন ঘটবে। হাতে আঁকা জিনিস থেকে বিভিন্ন হস্তশিল্পের সামগ্রী থাকবে প্যান্ডেলে। এখানে এক লক্ষ ৪০ হাজার টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।