নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুণ্ডি: ঘড়ির কাঁটায় রাত প্রায় ৯টা। তখনও দোকানপাট খোলা রয়েছে বাঘমুণ্ডির মুখোশ গ্রাম চড়িদায়। রাতে যে প্রচুর বিক্রিবাটা হচ্ছে, তেমন হয়। শিল্পীরা সবাই মুখোশ তৈরিতে ব্যস্ত। শিল্পীদের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেল, পুজোর মণ্ডপসজ্জার জন্য প্রত্যেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মুখোশের বরাত পেয়েছেন। তাই সময়ের মধ্যে শেষ করতে এইসময় মুখোশ গ্রামে শিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে।
এই মুহূর্তে দম ফেলার ফুরসৎ নেই মুখোশ শিল্পী বান্টি সূত্রধরের। সুদূর দিল্লি থেকে এবছর মণ্ডপসজ্জার জন্য মুখোশের বরাত এসেছে তাঁর কাছে। মুখোশ তৈরি করতে গিয়ে কার্যত নাওয়া খাওয়া ভুলেছেন। বান্টি বলছিলেন, দিল্লির পান্ডারা রোড দুর্গাপুজো কমিটি এবছর পুজোয় ছৌ মুখোশ দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করছে। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০টি মুখোশের বরাত রয়েছে। সেইসঙ্গে ছৌ নাচের দলের জন্যও মুখোশ তৈরি করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিক্রির জন্যও মুখোশ রয়েছে। তিনি বলেন, দিল্লির পুজো মণ্ডপের জন্য যেসব মুখোশ তৈরি হচ্ছে তা পৌঁছে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, মণ্ডপ সাজিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও আমাদের কাঁধেই। তাই মহালয়ার আগেই সব কাজ শেষ করতে দম ফেলার সময় পাচ্ছি না।
একই অবস্থা সমু সূত্রধর, পরিমল দত্তের। সমু এবছর নদীয়া, কলকাতায় একাধিক পুজোমণ্ডপ থেকে মুখোশের অর্ডার পেয়েছেন। পরিমলের মুখোশ যাচ্ছে হাওড়া, কলকাতা, হুগলিতে। তাঁরাও বলছিলেন, বৃষ্টির কারণে মুখোশ তৈরির পর শুকাতে দেরি হচ্ছে। তার উপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মুখোশ পুজো মণ্ডপে পৌঁছে দিতে হবে। তাই দিনরাত এক করেই কাজ করতে হচ্ছে। চড়িদা থেকে আবার বহু শিল্পীর ডাক পড়েছে ভিনরাজ্যে প্রতিমা তৈরিতে। যেমন, শিল্পী ভীম সূত্রধর এবছর প্রতিমা তৈরির ডাক পেয়ে সুদূর মধ্যপ্রদেশে পাড়ি দিয়েছেন। দোকানের দায়িত্ব দিয়েছেন ছেলে চাঁদ সূত্রধরের উপর। চাঁদ বিএ প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। আপাতত একা হাতে সবকিছু সামলাচ্ছে সে। চাঁদ বলে, বাবা প্রতি বছরই এইসময় অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য ভিনরাজ্যে যায়। গত বছর উত্তরপ্রদেশ গিয়েছিল। এবছর মধ্যপ্রদেশ গিয়েছে।
শুধু চাঁদ নয়, বর্তমানে বহু দোকানেই দায়িত্ব সামলাচ্ছে চাঁদের মতো ছোট ছোট ছেলেরা। পড়াশোনার পাশাপাশি মুখোশ তৈরি থেকে রং করা, সাজানো, মুখোশ প্যাকেটবন্দি করে তা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়া, সবকিছুই করতে হচ্ছে তাদের। এভাবেই বংশ পরম্পরায় নিজেদের শিল্পকে বয়ে নিয়ে চলেছে চড়িদা। -নিজস্ব চিত্র