Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শোকে পাথর, অস্মিতা ও অঙ্কিতের ছবি মুছে ফেলছে মণ্ডল পরিবার

শোকে পাথর, অস্মিতা ও অঙ্কিতের ছবি মুছে ফেলছে মণ্ডল পরিবার
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ : ‘ছবিগুলি আর মোবাইলে রাখিস না বুঝলি। দেখলে আরও বেশি কষ্ট হবে’- বুধবার ছোটদের এই নির্দেশ দিলেন বড়রা। তারপর কাঁদতে কাঁদতে বণিকবাড়ির দুই শিশুর সব ছবি মোবাইল থেকে ডিলিট করে দিল প্রতিবেশী মণ্ডলবাড়ির কিশোরী অর্পিতা। বুধবারের পর তার কাছে স্মৃতিটুকুই শুধু যা রইল।

Advertisement

সোমবার রাতে পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার দক্ষিণ রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃতীয় ঘেরিতে বণিকবাড়িতে বাজি বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিল সে বাড়ির দুই ভাই-বোন অস্মিতা (ছয় মাস) ও অঙ্কিত (পাঁচ মাস)। তারা ছিল পাড়ার অনেকের প্রিয়। সোমবার বিকেলে শিশুদু’টিকে নিয়ে এসেছিল মণ্ডলবাড়ির ছোটরা। শিশু দু’টি ছিল তাদের সবারই আদরের। চন্দ্রকান্ত বণিকের মেয়ে অস্মিতা ও তুষার বণিকের ছেলে হচ্ছে অঙ্কিত। প্রতিদিন বিকেলে মায়ের কোলে চেপে দু’জনে ঘুরতে আসত মণ্ডলবাড়িতে। সে বাড়িতে ঢোকার পর কে প্রথম তাদের কোলে নেবে তা নিয়ে লেগে যেত কাড়াকাড়ি। চন্দ্রকান্তের প্রতিবেশী দলপতি মণ্ডলের বাড়িতে ১৪ জন সদস্য। তাঁদের সবারই কোলে কোলে শিশুদু’টির বিকেল কাটত। তবে মঙ্গলবার থেকে ওই দুই শিশুর খিলখিল হাসির শব্দ বা কান্নার আওয়াজ নেই। 
সে কথা ভেবে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই চলেছে মণ্ডলবাড়ির অর্পিতা, তৃষা ও বর্ষারা। খাওয়া দূরের কথা রাতে ঘুমোতেও পারছে না। শোকস্তব্ধ গোটা পরিবারই। কিশোরীরা বিকেলে উঠোনে বসে তাকিয়ে থাকে বণিকদের পোড়া বাড়িটির দিকে। তবে শুধু মণ্ডল পরিবার নয়, পুরো গ্রামটাই এখন থমথমে। কেউ ভুলতে পারছে না বণিক পরিবারের দুই শিশুর উজ্জ্বল মুখ দু’টি। কথা বলতে গিয়ে এখনও কয়েকজন গ্রামবাসী কেঁদে ফেলছেন। এই ঘটনার পর থেকে কেউই আর ভাই-বোনের ছবি দেখতে চাইছে না। বণিক পরিবারের পোড়া বাড়িটা নিজেই যেন একটি কাহিনি হয়ে গিয়েছে। চারিদিক লাল ফিতে দিয়ে ঘেরা। বাড়ির কাছাকাছি কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রচুর পুলিস মোতায়েন রয়েছে। সন্ধ্যার পর  থেকে এখন গ্রামের রাস্তায় খুব বেশি লোকজন দেখা যায় না। সবার মনের মধ্যেই তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। আনাচ-কানাচে কান পাতলেই প্রশ্ন, কীভাবে সম্ভব হল এতকিছু। সকালে দোকান খুললেই চায়ের আড্ডায় ঘুরেফিরে আসছে বোমা বিস্ফোরণের কাহিনি। গ্রামের শিশুরা স্কুল থেকে ফেরার পথে পোড়া বাড়ির সামনে দাঁড়াচ্ছে। পরক্ষণেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে চোখেমুখে। তারপরই সোজা দৌড়ে বাড়িতে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পথে সাইকেল দাঁড় করিয়ে চলছে পোড়া বাড়ি দেখা। অখ্যাত গ্রামটি অচিরেই একটি পোড়া বাড়ির দৌলতে যেন হয়ে উঠেছে দ্রষ্টব্য।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ