বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকা জুড়ে জলাশয় বোজানো থেকে পরিবেশ ধ্বংসের ঝোঁক বেড়েছে। এই অবস্থায় অন্য চিত্র জোকার নবপল্লির কালুয়াতে। একটি পাঁচ বিঘের জলাশয়ে হাজার হাজার পদ্মফুলের চাষ করে পরিবেশ বন্ধু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন অনাথ ও তাঁর স্ত্রী ঊষা মণ্ডল। রোজ ওই জলাশয়ে আটশো থেকে হাজার, কখনও তার বেশি পদ্মফুল ফুটছে। তা চলে যাচ্ছে স্থানীয় বাজার এবং হাওড়া ফুল হাটে। শুধু তাই নয়, জল যাতে শুদ্ধ থাকে এবং পদ্মফুলের স্বাস্থ্য যাতে সুন্দর হয়, এজন্য চুন, জৈব সার ও ভিটামিন দেওয়া হয় নিয়ম করে। পদ্মচাষের পাশাপাশি জলাশয়ে মাছচাষ এবং হাঁস পালনও হচ্ছে। জলাশয়ের পাড় ঘেঁষে আম, কাঁঠাল সহ নানা গাছগাছালি রয়েছে। সেখানে পাখিরা বাসা বেঁধেছে। এছাড়া আল ধরে সব্জিচাষ, মুরগি থেকে গবাদি প্রাণী প্রতিপালন হচ্ছে। এইভাবে জলাশয় ও ভিটেকে ব্যবহার করে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের রুটিরুজির ব্যবস্থাও করছে মণ্ডল পরিবার। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচও এখান থেকেই মিলছে।
অনাথ ও ঊষা মণ্ডল জানালেন, এই জলাশয়, সবুজ গাছ আর পোষ্যরা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই এইসব রক্ষার জন্য পরিশ্রম হলেও আনন্দ পাই। ওই দম্পতির কথায়, আমাদের পাঁচখানা গোরু আছে। তার দুধ বিক্রি হয়। এছাড়া গোবর থেকে ঘুঁটে ও সার তৈরি করি। হাঁসের ডিম হয়। কখনও সব্জি, কখনও পুকুরের মাছ বিক্রি করি আমরা। তাছাড়া এখন থেকে সেই দুর্গাপুজো পর্যন্ত রোজ পদ্মফুল তুলে বিক্রি চলবে। ভোরে উঠে নৌকা নিয়ে পদ্মকুড়ি তুলতে নেমে পড়তে হয়। কারণ কুড়ির বেশি চাহিদা।
শহরতলির এই জায়গার ছবিটা একটু অন্যরকম। নিটোল পদ্মপাতা জলের উপর মাথা তুলে রয়েছে। কোনও পাতার মাঝে একেবারে ছোট বলের আকারে জল টলটল করছে। টুনটুনি পাখি সেই পাতার উপর বসে জলে ঠোকর দিচ্ছে। হাঁসের ছানাপোনা তার ভিতর চরে বেড়াচ্ছে। কিলবিল করছে চারাপোনার ঝাঁক। পাশে ডাঙায় আম, কাঁঠালের ডালে কোকিল আর হরেক পাখি ডাকছে। ফিঙে বসে, কাঠঠোকরা ঠকাঠক করছে। নিরিবিলি এই জলাশয়ের পদ্মপাতার ফাঁকে ফাঁকে অগুনতি পদ্মকুড়ি। একটি-দু’টি নয়, শয়ে শয়ে। কোনওটা একদিন বাদে ফুটবে, কোনওটা আজই ফোটার অপেক্ষায়।