Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চারমাসে তিনবার বদল মণ্ডল কমিটি! মহিষাদলে গৃহযুদ্ধেই বেসামাল পদ্ম শিবির

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি মহিষাদলে চার মাসে তিনবার মণ্ডল কমিটি গড়ল। নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ সামাল দিতে বারবার কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করতে হয়েছে।

চারমাসে তিনবার বদল মণ্ডল কমিটি! মহিষাদলে গৃহযুদ্ধেই বেসামাল পদ্ম শিবির
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি মহিষাদলে চার মাসে তিনবার মণ্ডল কমিটি গড়ল। নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ সামাল দিতে বারবার কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করতে হয়েছে। এই ঘটনা বিজেপিতে আগে কখনও হয়নি বলে দলের নেতা-কর্মীদের দাবি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তমলুক সাংগঠনিক জেলায় একচেটিয়া মণ্ডল কমিটির সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়। মহিষাদল-২ মণ্ডলের সভাপতি হন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা চন্দনা সামন্ত দাস। যদিও মণ্ডল কমিটির সভাপতি পদে সাংগঠনিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তিনজনের প্যানেলে চন্দনাদেবীর নাম তিন নম্বরে ছিল বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি। তারপরও চন্দনাদেবী মণ্ডল সভাপতি হন। তাঁর নাম মণ্ডল সভাপতি হিসেবে ঘোষণার পর একঝাঁক নেতা-কর্মী বসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে বিজেপি নেতৃত্ব মণ্ডল কমিটি গড়তে হিমশিম খায়।

Advertisement

চার মাস বাদে গত ৭জুন মহিষাদল-২ মণ্ডলে ১৯জনের পদাধিকারী কমিটি গঠন করা হয়। ওই তালিকা নিয়ে রীতিমতো বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি হয়। ওই মণ্ডলের বিজেপি নেতা শান্তনু বল্লভ ও তাঁর অনুগামীরা বসে যান। দলের জেলা নেতৃত্ব বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। এরপর ২৮আগস্ট দ্বিতীয়বার ২০জনের মণ্ডল পদাধিকারী কমিটি গড়া হয়। তারপরও বিদ্রোহ থামেনি। দলের একটা বড় অংশ দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এর ফলে সমস্যায় পড়ে যায় নেতৃত্ব। শেষমেশ ৪সেপ্টেম্বর তৃতীয়বার ২০জনের মণ্ডল কমিটি গড়া হয়। আগের তালিকা থেকে বেশকিছু নাম রদবদল করে তৃতীয়বার তালিকা বানানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মহিষাদল ব্লকের গড়কমলপুর, লক্ষ্যা-১ ও ২ এবং ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে বিজেপির মহিষাদল-২ মণ্ডল কমিটি। ওই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে লক্ষ্যা-১ ও ইটামগরা-২গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে দলের মধ্যে সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া হয়েছে। তাতে ওই মণ্ডলের রিটার্নিং অফিসার ছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা অঞ্জন ভারতী। অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার হয়েছিলেন হলদিয়ার দলীয় নেতা সুব্রত দে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার রিটার্নিং অফিসার ছিলেন শমীক দাস। জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার ছিলেন তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন জেলা সভাপতি তপনবাবুর বাড়ি মহিষাদল-২মণ্ডলের মধ্যেই।
জানা গিয়েছে, মণ্ডল সভাপতি হিসেবে তিনজনের প্যানেল তৈরি হয়েছিল। তাতে এক নম্বরে শান্তনু বল্লভ, দুইয়ে নারায়ণ মান্না ও তৃতীয় স্থানে চন্দনা দাসের নাম ছিল। যদিও জেলায় ওই প্যানেল রদবদল করে চন্দনাদেবীর নাম এক নম্বরে রেখে রাজ্যে পাঠানো হয়। অভিযোগ, তপন বন্দ্যোপাধ্যায় মণ্ডল সভাপতি হিসেবে শান্তনু বল্লভকে না চাওয়ায় এভাবে রদবদল হয়।
শান্তনুবাবু মণ্ডল সভাপতি না হওয়ায় তাঁর ঘনিষ্ঠরা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে যান। এর ফলে বেকায়দায় পড়ে বিজেপি নেতৃত্ব। মণ্ডলের পদাধিকারী তালিকায় কারা থাকবেন, তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র ঝামেলা বাধে। এর জেরেই দফায় দফায় তালিকা বদল করতে হয়। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি চন্দনাদেবী বলেন, কমিটি নিয়ে দলের ভিতরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছিল। সাংগঠনিক কাজকর্ম করা যাচ্ছিল না। তাই তিনবার তালিকা বদল করতে হল। বিজেপির জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য তথা প্রাক্তন সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মণ্ডল কমিটিতে সকলের যাওয়ার আগ্রহ থাকে। মণ্ডল কমিটি তালিকা তৈরির পর অনেকের ক্ষোভ, অভিমান হয়েছিল। পরবর্তীতে রদবদল করে ক্ষোভ মেটানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ