


সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বিয়েবাড়ি হোক কিংবা শ্রাদ্ধ বাড়ি যেকোনও রকম অনুষ্ঠানেই আবর্জনা ফেলা নিয়ে নানান সমস্যা দেখা দেয় বিভিন্ন এলাকায়। কোথাও প্লাস্টিকের বোতলের স্তূপ পড়ে থাকে, কোথাও আবার যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয় অতিরিক্ত খাবার থেকে শুরু করে পাতা সহ অন্যান্য জিনিসপত্র। এলাকার বাসিন্দাদের ওই সমস্যা থেকে মুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে মানবাজার-২ ব্লক প্রশাসন। প্রশাসনকে আগাম জানালেই অনুষ্ঠানের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে শুরু করে আবর্জনার অনেকাংশ তুলে আনার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
মানবাজার-২ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়েবাড়ি বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের পর এলাকায় প্রচুর আবর্জনা পড়ে থাকে। নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র পড়ে থাকে ওই আবর্জনা। তাই ন্যূনতম খরচে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের মাধ্যমে ওই আবর্জনা এসডব্লুএম ইউনিটে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপর ওই আবর্জনা থেকে প্লাস্টিক আলাদা করা হচ্ছে। বাকি আবর্জনা জৈব সার তৈরির কাজে লাগছে। ইতিমধ্যে মানবাজার-২ ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে ব্লক জুড়ে এই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। রূপশ্রী প্রকল্পে যারা সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করছেন তাঁদের বিয়ের নির্দিষ্ট স্থানে পৌছে যাচ্ছেন পঞ্চায়েতের এসডব্লুএম ইউনিটের কর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষে প্লাস্টিকের বোতল সহ আবর্জনা নিয়ে আসার ব্যবস্থাও করছেন তাঁরা।
এবিষয়ে মানবাজার-২এর বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস বলেন, মানবাজার-২ ব্লক এলাকায় কোনও বড় সবজি বাজার বা মার্কেট এক জায়গায় নেই। ফলে এসডব্লুএম ইউনিটগুলি চালু হলেও সেখানে একসঙ্গে কোনও আবর্জনা নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছিল না। সেসময়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আবর্জনার বিষয়টি মাথায় আসে। বিডিও আরও জানান, গোটা ব্লক এলাকায় বিয়েবাড়ি বা অন্যান্য অনুষ্ঠান বাড়িতে অনেক মানুষের খাওয়া দাওয়া হলেই প্লাস্টিকের জলের ব্যবহার করা হয়। সেই বোতল অনুষ্ঠানের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে। সেজন্য ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে ঠিক করা হয়েছে এলাকায় অনুষ্ঠানের বিষয়ে ব্লক প্রশাসনকে জানালে নামমাত্র খরচে ওই আবর্জনা সহ প্লাস্টিক নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
এক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েতের এসডব্লুএম ইউনিট ওই আবর্জনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি প্রক্রিয়াকরণের কাজ করবে। বিডিও আরও জানান, এক্ষেত্রে রূপশ্রী প্রকল্পকেও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য যারা আবেদন করছেন তাঁদের বিয়ের তারিখ, স্থান সবই জানতে পারছে ব্লক প্রশাসন। তাই আবেদনকারীদেরই অনুরোধ করা হচ্ছে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানের আবর্জনা সংগ্রহে ব্লক প্রশাসনকে জানানোর জন্য। সেই তথ্য অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠান বাড়িতে গিয়ে নির্দিষ্ট পাত্র দিয়ে আসা হচ্ছে।
কোথাও আবার পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল রাখার জন্য মশারি এবং ত্রিপলের অস্থায়ী রাখার জায়গা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। তারপর অনুষ্ঠান শেষে ওই আবর্জনা এবং প্লাস্টিক আলাদাভাবে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবর্জনা থেকে জৈব সার ও প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র