নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার কথা মহিলাদের। কিন্তু ভাণ্ডারের টাকা গত তিনবছর ধরে ঢুকছে এক যুবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ঘটনাটি সামনে আসার পর হাবড়ায় চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের তথ্য যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার কথা মহিলাদের। কিন্তু ভাণ্ডারের টাকা গত তিনবছর ধরে ঢুকছে এক যুবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ঘটনাটি সামনে আসার পর হাবড়ায় চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের তথ্য যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
হাবড়ার ফুলতলার বাসিন্দা নিধু সরকার সম্প্রতি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানেই বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের কর্মী বিশ্বজিৎ দাস অ্যাকাউন্টের তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানতে পারেন, ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা জমা পড়ছে ওই অ্যাকাউন্টে। ব্যাঙ্কের নথি অনুযায়ী, প্রতি মাসে টাকা ঢুকেছে নিধুর অ্যাকাউন্টে। হিসেব অনুযায়ী, গত তিনবছরে মোটা টাকা জমা পড়েছে। সেই ভুলই হয়ে চলেছে। নিধুবাবুর দাবি, তিনি কোনোদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেননি। এমনকি তাঁর পরিবারের তরফেও এই প্রকল্পের জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, আবেদন না করে কি ভাবে সরকারি প্রকল্পের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকল? নিধু বলেন, ‘আমি জানি না কতদিন এই টাকা পেয়েছি। তবে আমি তা ফেরত দেব।’
ঘটনার খবর ছড়াতেই প্রশাসনিক স্তরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েত সদস্য তুষারকান্তি মণ্ডল জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু অসঙ্গতির তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ভোটার কার্ডে এক মহিলার ছবি আছে। কিন্তু নথিতে লিঙ্গের ঘরে পুরুষ উল্লেখ। সেই তথ্যগত বিভ্রান্তির জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ব্যাখ্যা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনকারীর পরিচয়, বয়স, লিঙ্গ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য নথি একাধিকস্তরে যাচাই হওয়ার কথা। সেখানে এমন একটি বড়ো অসঙ্গতি বছরের পর বছর নজর এড়াল কীভাবে? প্রশ্ন তুলছেন অনেকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। নিধু সরকারকে জানানো হয়েছে ভুলবশত পাওয়া টাকা ফেরত দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। নিধু টাকা ফেরত দিতে রাজি বলে জানিয়েছেন।