Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ, কীটনাশক খাইয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক স্বামীর। প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে মারধর। এছাড়াও নানা কারণে অত্যাচার স্ত্রীকে। অবশেষে জোর করে কীটনাশক খাইয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ।

স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ, কীটনাশক খাইয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক স্বামীর। প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে মারধর। এছাড়াও নানা কারণে অত্যাচার স্ত্রীকে। অবশেষে জোর করে কীটনাশক খাইয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরামে। বধূর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করল পতিরাম থানার পুলিস। পুলিস সূত্রে খবর, মৃতের নাম শিখা পাল (২২)। শ্বশুরবাড়ি পতিরামের পালপাড়ায়। বাপের বাড়ি বোল্লা এলাকায়। অভিযোগ পেতেই অভিযুক্ত স্বামী নিমাই পালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। 

Advertisement

এবিষয়ে পতিরাম থানার ওসি সৎকার সাংবো বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
পুলিস সূত্রে খবর, আট বছর আগে নাবালিকা থাকা অবস্থাতেই বিয়ে হয়েছিল বধূর। ওই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে অশান্তি লেগে থাকত দম্পতির। অভিযুক্ত স্বামীর সঙ্গে অন্য কারও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। মাঝেমধ্যেই অচেনা অপরিচিত মহিলার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখতেন স্ত্রী। এছাড়াও ফেসবুকেও কথোপকথন দেখে প্রতিবাদ করেছিলেন। যা থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে আর সংসার করতে চাইছিল না। সম্প্রতি ওই বধূ তাঁর বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাবার বাড়িতে ১৮০ টাকার খাবার নিয়ে গিয়েছিল। সেই টাকা কেন খরচ করা হল? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বধূর সঙ্গে অশান্তি করা হয়। ২৫ আগস্ট এনিয়ে মারধর করা হয়। আরও অভিযোগ, জোরপূর্বক বধূর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। পরে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাঝে বালুরঘাট হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসা করার নামে ছুটিও নেওয়া হয়। কিন্তু বধূকে শ্বশুরবাড়িতেই রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরেই ওই বধূর বাবা এসে মেয়েকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। 
গত  বৃহস্পতিবার বধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফের বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন বাবা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। 
এনিয়ে পতিরাম থানায় অভিযুক্ত স্বামী ও তার মায়ের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বধূর বাবা সুনীল পাল। অভিযোগ পেতেই পতিরাম  থানার পুলিস স্বামীকে গ্রেপ্তার  করেছে। এবিষয়ে ওই বধূর বোন সীমা পাল বলেন, জামাইবাবুর সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্ক রয়েছে। তার জেরেই দিদিকে দেখতে পারত না। দিদি কিছু বললেই মারধর করত। এমনকী আমাদের বাড়িতে এলেও অশান্তি করত। অবশেষে দিদিকে জোর করে কীটনাশক খাইয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ