Bartaman Logo
১৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আশুতোষে ডিম থেরাপির শিকার ‘মমতা তৃণমূল’, জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে এবিভিপির সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ, দর্শক পুলিশ

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আশুতোষ কলেজ চত্বর।

আশুতোষে ডিম থেরাপির শিকার ‘মমতা তৃণমূল’, জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে এবিভিপির সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ, দর্শক পুলিশ
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আশুতোষ কলেজ চত্বর। তৃণমূলের আইটি সেল বনাম এবিভিপির খণ্ডযুদ্ধে দীর্ঘক্ষণ তপ্ত হয়ে রইল হাজরা মোড় এলাকা। তৃণমূলের অভিযোগ, এবিভিপি তাদের সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েছে ও হামলা চালিয়েছে। এবিভিপির পালটা অভিযোগ, তাদের পোস্টার-ফ্লেক্স ছিঁড়েছে তৃণমূলের লোকজন। 

Advertisement

শনিবার আশুতোষ কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি নিয়েছিল মমতাপন্থী তৃণমূলের ছাত্র পরিষদ ও আইটি সেল। এবিভিপি তাদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। এমনকি কলেজের ছাত্র নয়, এমন এবিভিপি কর্মীরা কলেজে প্রবেশ করে বলে দাবি কালীঘাট তৃণমূলের। সূত্রের খবর, এদিন পতাকা উত্তোলনের আগে মমতাপন্থী তৃণমূলের কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। এবিভিপির কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। তা নিয়েই উত্তেজনার সূত্রপাত। একটা সময় দু’পক্ষের জোর বচসা বেধে যায়। তারপর শুরু হয় রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ। তার মধ্যেই এবিভিপি সমর্থকদের দিক থেকে তৃণমূলের আইটি সেলের সভানেত্রী উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। 
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে কলেজ গেটের বাইরে তাদের সঙ্গেও তুমুল বাগযুদ্ধ বেধে যায় মমতাপন্থী তৃণমূলের ছাত্র শাখার কর্মীদের। উপাসনার অভিযোগ, মোবাইলে ভিডিয়ো তোলার সময় পুলিশ তাঁর ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির আমলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের উপর হামলা হল। অথচ পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ এবিভিপির তরফে পালটা দাবি করা হয়, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে বহিরাগতরা আশুতোষ কলেজে ইট, পাথর, লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়েছে। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবিভিপি বলেছে, ‘আশুতোষ কলেজে তৃণমূলপুষ্ট দুষ্কৃতীরা এবিভিপির ধ্বজ-ব্যানার ছিঁড়েছে। ছাত্রছাত্রীদের হামলা করেছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আড়ালে কলেজ চত্বরে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। ডিম থেরাপির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মূল ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানো উচিত নয়।’ এবিভিপির দক্ষিণবঙ্গ প্রদেশ সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের দ্বারা স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক হিংসা ও শক্তি প্রদর্শনের কেন্দ্রে পরিণত করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। শিক্ষাঙ্গন রাজনৈতিক দলের বাহুবল প্রদর্শনের স্থান নয়।’
এই অবস্থায় কালীঘাট তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘ডিপথেরাপি বলে কৌতুকের বিষয় নয়। বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ধ্বংস করতে চাইছে বিজেপি। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে যা হয়েছে, উপাসনার সঙ্গে যা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। রাজনৈতিক লড়াই থাকবে, কিন্তু মহিলাকে আক্রমণ! শমীক ভট্টাচার্য ভদ্র তৃণমূল খোঁজার চেয়ে ভদ্র বিজেপি তৈরি করুক।’ এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ