নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আবারও বিভ্রাটের মুখে পড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান। নির্ধারিত সময়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে পারেনি বিমানটি। আবহাওয়া খারাপ থাকায় এক ঘণ্টার বেশি বিমানটি আকাশে চক্কর খায়। বিমানটিতে বেহালায় নামানোর চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। এমনকি অন্যত্র নিয়ে যাওয়াও সম্ভব হয়নি। শেষমেশ আকাশে দীর্ঘক্ষণ চক্কর খাওয়ার পর বিমানটি কলকাতায় অবতরণ করে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচনি প্রচারে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রথমে তিনি পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা করেন। তারপর দুবরাজপুরে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় জনসভা। দুটি রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ করে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে বিশেষ বিমানে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। কিন্তু বিকাল ৪টা থেকে দমদম ও সংলগ্ন অঞ্চলে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া। অঝোরে বৃষ্টি হতে থাকে কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরে। সেইসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ায় বিমানবন্দরের বাইরে সাংবাদিক বৈঠকের জন্য ব্যবস্থা থাকা ছাতা, পোডিয়াম, কিয়স্ক লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে, নির্ধারিত সময়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে পারেনি মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। জানা গিয়েছে, প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানটি শহরের অন্য অংশ দিয়ে ঘুরিয়ে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি। পরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে নামারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেটাও কার্যকর হয়নি। বেশ কয়েক পাক চক্কর খাওয়ার পর বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটে বিমানটি কলকাতায় অবতরণ করে। বিমানবন্দরে নেমে সোজা বাড়ির পথে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিকূল আবহওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানটি কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবন্দরে বিমান চলাচল প্রায় ২০ মিনিটের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করে রাখা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিমান চালাচল শুরু হয়। ৫টা ১৯ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান নিরাপদে অবতরণ করে।
তবে এই বিমান বিভ্রাটের ঘটনা অনেকগুলি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আবহাওয়া খুব খারাপ, এই খবর কি আগে থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে ছিল না? যদি সেই তথ্য থাকে, তাহলে তা আগেভাগে কেন অন্ডাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। যদি প্রতিকূল আবহাওয়ার খবর আগে থেকে জানানো হত, তাহলে প্রয়োজনবোধে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান রওনা হত না। সেইসঙ্গে এই প্রশ্নটাও উঠেছে, যখন আবহাওয়া খুব খারাপ দেখা দিয়েছেন, তখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কেন বিমানটিকে ফের অন্ডালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দিল না।
ফলে বিমান বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। আগামী দিনে ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে।
এদিন ৪টা ২২ মিনিট থেকে ৫টা ১৯ মিনিটের মধ্যে একটি বিমানকে অন্যত্র ঘুরিয়ে দিতে হয়। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, দমদম এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বর্জ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। তার জেরে ভারী বৃষ্টিপাত এবং সঙ্গে ছিল ৫০-৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া।