সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি বাতিলের তালিকায় নাম। পরে সংসারে অশান্তি। বিবাহবিচ্ছেদের মামলা ঝুলে হাইকোর্টে। মঙ্গলবার সকালে সেই বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার ঘিরে তোলাপাড় রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রাম। বাড়ির দোতলার বারান্দায় গলায় ধুতি জড়ানো অবস্থায় ঝুলছিল দেহটি। বছর একত্রিশের বৃষ্টি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটি অন্যমাত্রা পেয়ে যায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের বক্তব্য, সবমিলিয়ে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালেতাঁর মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছিল। এর আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এমনকি গত রবিবারও নিজের হাত কেটে রক্তারক্তি করেছিলেন বৃষ্টি। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাড়ে তিন বছর বয়সে মা স্বপ্না মুখোপাধ্যায় আগুনে পুড়ে মারা যান। বাবাই ছিলেন বৃষ্টির সব। পরে, নীহারবাবু দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। প্রায় ১২ বছর আগে কুসুম্বা লাগোয়া রামরামপুর গ্রামের বাসিন্দা তথা টিআরডিএ’র কর্মী কৌশিক ঘটকের সঙ্গে বৃষ্টির বিয়ে হয়। তাঁদের ১১ বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। সে বর্তমানে বাবার সঙ্গেই থাকে। বিয়ের অনেক পরে বৃষ্টি বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লার্ক পদে চাকরি পান। ২০২৩ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ-সি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিলের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে ৬০৮ নম্বরে নাম ছিল বৃষ্টির। তার পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। সেই সময় থেকেই বাপের বাড়িতে থাকছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি। এদিন তাঁর বাবা নীহারবাবু বলেন, ‘অতীতেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে মেয়ে। গত রবিবারই নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করেছিল। কিন্তু এভাবে ও চলে যাবে ভাবতে পারছি না!’ নীহারবাবুর বাড়ির রান্নার কাজ করেন দীপালি চাঁদ। র্তাঁর কথায়, ‘সকালে হাতের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করিয়ে জলখাবার খান। এরপর ফোনে কথা বলতে বলতে নীচ থেকে একটি ধুতি নিয়ে উপরে উঠে যান বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বারান্দায় তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান ওঁর সৎ মা পম্পা মুখোপাধ্যায়।’



