Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মমতার স্বাস্থ্যসাথী এবার স্বীকৃতি পাচ্ছে বিশ্বসেরা চিকিৎসকদের ‘সেন্ট গ্যালেন’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথীর গরিমা এবার রাজ্য, দেশের চৌকাঠ পেরিয়ে ছুঁয়ে ফেলল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্র।

মমতার স্বাস্থ্যসাথী এবার স্বীকৃতি পাচ্ছে বিশ্বসেরা  চিকিৎসকদের ‘সেন্ট গ্যালেন’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে
  • ১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথীর গরিমা এবার রাজ্য, দেশের চৌকাঠ পেরিয়ে ছুঁয়ে ফেলল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্র। ক্যান্সার চিকিৎসা, সুনির্দিষ্টভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথীর সাফল্য ঠাঁই পেল আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘দি ব্রেস্ট’-এ।  শুধু তাই নয়, ক্যান্সারের মতো মারণ ব্যাধির চিকিৎসায় মানুষের খরচ কমাতে  এই প্রকল্পের সার্থকতাকে মান্যতা দিচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসা সম্মেলন ‘সেন্ট গ্যালন ব্রেস্ট ক্যান্সার কনফারেন্স ২০২৫’। বাংলায় ক্যান্সার চিকিৎসায় কীভাবে মমতার স্বাস্থ্যসাথী রোগীদের পাশে থেকেছে এবং মাইলফলক স্থাপন করেছে, সেই গবেষণাপত্র পাঠ করতে বাংলার চিকিৎসক ডাক পেয়েছেন অস্ট্রিয়ায় ঩আয়োজিত সেই সম্মেলনে। ১৩ মার্চ বিশ্বের তাবড় চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তা পাঠ করবার কথা। বিশিষ্ট অঙ্কোসার্জন ডাঃ সৌমেন দাস সহ ৫ জন চিকিৎসকের সেই সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার খরচ ৭০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। তাই এই প্রকল্পে কেমোথেরাপির ‘ট্রিটমেন্ট কমপ্লিসন রেট’ শুধু বাংলায় নয়, দেশে সর্বোচ্চ। প্রায় ৯২ শতাংশ। সহজ করে বোঝালে, একবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে কেমো শুরু হলে তা প্রায় শেষ পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রোগীরা। সেখানে নগদে চিকিৎসা করা রোগীদের গড়ে ৬০ শতাংশ কেমোথেরাপি সম্পূর্ণ হচ্ছে। কোর্স শেষ করছেন না বহু রোগীই।  

Advertisement

নয়াবাদ ও সিঁথির দুই বেসরকারি হাসপাতালের স্টেজ ১-৩ পর্যায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের নিয়ে হয়েছিল এই সমীক্ষা। একদিকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ২৪৫০ জন এবং অন্যদিকে ২৭৩৫ জন নগদে চিকিৎসা করা রোগীদের চিকিৎসার গতিপ্রকৃতি লক্ষ করা হয়। আদর্শ নিয়ম অনুযায়ী, ২১ দিন অন্তর ৬-৮টি কেমোথেরাপির সাইকেল পান রোগীরা। দেখা যায়, প্রথম সাইকেল সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই নগদের রোগীদের মধ্যে থেকে ১০৯০ জন আর খরচ টানতে না পেরে স্বাস্থ্যসাথীতে নাম অন্তর্ভুক্ত করান। প্রশ্ন উঠতেই পারে, হয়তো নগদে চিকিৎসার রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি ছিল। প্রধান সমীক্ষাকারী চিকিৎসক সৌমেনবাবু বলেন, মৃত্যুহার দুই ধরনের রোগীদের মধ্যেই ছিল সমান—৫ শতাংশ। তবে স্বাস্থ্যসাথীর সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে সমীক্ষায়। যেমন, ১২ শতাংশ রোগীর প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হয়েছিল। সেই খরচ স্বাস্থ্য‌সাথী দেয়নি। দ্বিতীয়ত, বায়োপসি সহ বিভিন্ন জরুরি পরীক্ষার খরচও মেলেনি। রোগীদের পকেট থেকে খরচ গিয়েছে। বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসক ডাঃ সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ক্যান্সারের মতো ব্যয়সাপেক্ষ চিকিৎসায় স্বাস্থ্যসাথীর ভূমিকা অপরিসীম। তবে কেমোছুট হওয়ার কারণগুলিকে এত সহজ সমীকরণে ফেলাও উচিত নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ