নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: বিধানসভা নির্বাচনের পর আজ, শনিবার কলকাতার বাইরে প্রথম সভা হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আরও একটু স্পষ্ট করে বললে, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে নতুন দলের নাম ও প্রতীক পাওয়ার পর আজই প্রথম সভায় আম জনতার সঙ্গে মিলিত হবেন মমতা।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে দুটি কর্মসূচি নেওয়া হয়—২১ জুলাই শহিদ দিবস এবং ২৮ আগস্ট ছাত্র সমাবেশ। দুটি কর্মসূচিই অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডে। সেই সভা থেকেই মমতা ঘোষণা করেন, এবার আমি জেলা সফর শুরু করব। জেলায় জেলায় যাব। মিটিং, মিছিল করব। মিলিত হব সাধারণ মানুষের সঙ্গে। সেইসূত্রেই আজ শনিবার থেকে মমতার কলকাতার বাইরে জেলাকেন্দ্রিক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। হুগলির শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে জনসভা করবেন মমতা। যদিও মমতা তৃণমূলের দাবি, এই সভা করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তারা অনুমতি দেয়নি। শেষে আদালতের নির্দেশে সভা করার অনুমতি পান মমতাপন্থীরা।
নেতৃত্ব জানিয়েছেন, জনবিরোধী বিজেপি সরকারের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে এবং গণতন্ত্র রক্ষার্থে এই জনসভা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হচ্ছে যে, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হবেন মমতা। ঘটনাচক্রে তাৎপর্যপূর্ণ হল, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে বলা হয়েছে, নতুন দলের নাম মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক ফুটবলার। দলের নাম ও প্রতীক পাওয়ার পর প্রথম সভা থেকে মমতা কী বার্তা দেন, কতজন মানুষ সভায় আসেন, তার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না, এমন মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু আজকে শ্রীরামপুরের সভা সবকিছুর জবাব দিয়ে দেবে। আমাদের সভা আটকাতে বিজেপির কথামতো পুলিশ কাজ করছে। ১০০-১৫০ জন তৃণমূল কর্মীকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অত্যাচার চলছে।
মমতার এই সভা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন থানা থেকে মেইল করা হয় প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে। সেই জবাব দিতে শুক্রবার আইনজীবীর কালো পোশাকে থানায় গিয়েছিলেন অসিতবাবু। তিনি বলেন, ‘পুলিশকে আইনি ভাষায় জবাব দিতেই আইনজীবীর পোশাক পরেছি।’ অসিতবাবু আরও বলেন, ‘পুলিশ আটটি বিষয় জানতে চেয়েছিল। আমরা উত্তর দিয়ে দিয়েছি। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক হাজার লোক নিয়ে আমাদের সভা হবে। কিন্তু সেখানে যদি মমতাকে দেখতে ৫০ হাজার লোক চলে আসেন, আমাদের কিছু করার নেই।’ একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘আমাদের সভা আটকাতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে তৃণমূলকর্মীদের। থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ডেকরেটরকেও! দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিজেপির বাইক বাহিনী।’