Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমতার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী রবি, অনুব্রত, বালুকে টেনে নিল ঋতব্রত তৃণমূল

প্রতিষ্ঠাতাকেই সরিয়ে দিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে টেনে নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। গত ২২ জুন জাতীয় কর্ম সমিতির বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়েছিল তারা।

মমতার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী রবি, অনুব্রত, বালুকে টেনে নিল ঋতব্রত তৃণমূল
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিষ্ঠাতাকেই সরিয়ে দিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে টেনে নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। গত ২২ জুন জাতীয় কর্ম সমিতির বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়েছিল তারা। এবার রাজ্য ও জেলা কমিটিতেও রবি, কেষ্ট, বালুর মতো মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গীদের নিজেদের শিবিরে টেনে নিল তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লক। শনিবার পূর্ব কলকাতার তপসিয়ায় বোটক্লাবে বর্ধিত কর্ম সমিতির বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। যে বৈঠকে কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নেতা-নেত্রীরা হাজির ছিলেন। এই বৈঠকেই সকলের মতামত নিয়ে জেলা সভাপতি মনোনীত করা হয়। তাতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে কেষ্টকে দায়িত্ব দিয়েছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এদিন কসবার বৈঠকে আসতে পারেননি কেষ্ট। তবে অনুব্রতর সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ চলছে, সে কথাটা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত। এছাড়াও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হাবরা বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক সুদীর্ঘ কালের। মমতার কাছে বরাবর স্নেহের ‘বালু’ হিসেবেই থেকে গিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। কিছুদিন আগেই তিনি মমতা তৃণমূলের দেওয়া সব পদ ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর থেকে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে। শনিবার ঠাঁই পেলেন  তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের রাজ্য কমিটিতে। পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম কোচবিহারের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, মমতাকে কাছে যিনি শুধুই ‘রবি’ বলে পরিচিত। মমতার পুরানো সঙ্গীদের অন্যতম রবি ঘোষও রয়েছেন ঋতব্রত শিবির ঘোষিত রাজ্য কমিটিতে।  এমনকি তাঁর মেয়ে পাপিয়া ঘোষও ঠাঁই পেয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের রাজ্য কমিটিতে।

Advertisement

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় ছিলেন গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, তাজমুল হোসেন ও জ্যোৎস্না মান্ডি। তাঁরাও এবার মমতার সঙ্গ ত্যাগ করে ঋতব্রত শিবিরের রাজ্য কমিটিতে। স্বর্ণকমল সাহা, শান্তনু সেন, নারায়ণ গোস্বামী, দেবলীনা বিশ্বাসের নাম এদিনের বৈঠকে ঘোষিত হয়েছে রাজ্য কমিটির তালিকায়। পাশাপাশি কলকাতা উত্তরের সভাপতি করা হয়েছে সন্দীপন সাহাকে এবং দক্ষিণ কলকাতা সভাপতি হয়েছেন দেবাশীষ কুমার।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এদিনের বৈঠকে এসেছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। আরজিকরের ডাক্তারি পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে যাঁর নাম জড়িয়েছে। যদিও ঋতব্রত সরাসরি জানিয়েছেন, উনি এসেছিলেন ঠিকই। কিন্তু পানিহাটির নির্মল ঘোষকে নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ওঁনার  ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিন রাজ্যের ২৬টি জেলায় জেলা সভাপতি পদে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করে ঋতব্রত শিবির। সঙ্গে ঘোষিত হয় ৮ জন মুখপাত্রের তালিকা। নব্য তৃণমূলের প্রথম কর্মসূচি হতে চলেছে একুশে জুলাই। ঋতব্রত জানিয়েছেন, মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ করার জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি মিলেছে। আমরা কর্মসূচি সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ