Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটে কলকাতায় মমতার বাজি পাঁচ নতুন ‘সৈনিক’

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ছয় কেন্দ্রে মুখ-বদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যে পাঁচ কেন্দ্রেই প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখই বাজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ভোটে কলকাতায় মমতার বাজি পাঁচ নতুন ‘সৈনিক’
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ছয় কেন্দ্রে মুখ-বদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যে পাঁচ কেন্দ্রেই প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখই বাজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, তেমনই আছেন তরতাজা নবীন মুখ। আছেন পোড় খাওয়া কাউন্সিলার বিজয় উপাধ্যায় থেকে সন্দীপন সাহা। নতুন মুখ হিসেবে তালিকায় এসেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ-সাংবাদিক কুণাল ঘোষ। মানিকতলা কেন্দ্রে সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডেকে এবারই প্রথম টিকিট দিল তৃণমূল। দলের রাজ্যসভার আরেক প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনিও বিধানসভার ভোটযুদ্ধে নতুন।  

Advertisement

বেলেঘাটা কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা এলাকার দাপুটে নেতা পরেশ পাল এবার লড়ছেন না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে দল। তাঁর জায়গায় এবার জোড়াফুল প্রতীকে লড়বেন সাংবাদিক কুণাল ঘোষ। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ কুণাল এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চলেছেন। গত ক’বছর ধরে বেলেঘাটা-মানিকতলা অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতাও ছিল যথেষ্ট। তাই শেষমেষ বেলেঘাটার ‘মিথ’ পরেশ পালের জায়গায় কুণালই বাজি তৃণমূলের। কুণাল বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমরা সকলেই কর্মী। আমাদের একটাই লক্ষ্য, বাংলাকে বাঁচানো। সমস্ত তৃণমূল কর্মীর কাছে আহ্বান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে বাঁচানোর যে লড়াই শুরু করেছেন, সবাই সেই যুদ্ধে শামিল হন। বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিন। আমার উপর আস্থা রাখার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ।’ 
তৃণমূলের এবারের প্রার্থী তালিকায় বড় চমক রয়েছে জোড়াসাঁকো এবং এন্টালি কেন্দ্রে। জোড়াসাঁকোয় বিধায়ক বিবেক গুপ্তাকে সরিয়ে মমতা টিকিট দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিজয় উপাধ্যায়কে। তিনি শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হলেও জোড়াসাঁকোর ভূমিপুত্র। এক সময় সমাজবাদী পার্টি করলেও ২০১১ সাল থেকেই তিনি তৃণমূল কাউন্সিলার। ২০০৬ সালের বিধানসভা এবং ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির হয়ে লড়েও ছিলেন তিনি। বিজয় উপাধ্যায় বলেন, ‘কিছুই জানতাম না। আচমকা নাম ঘোষণায় অবাক হয়েছি। তারপর প্রচুর ফোন পেয়েছি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন। নেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর ভরসা রেখেছেন। আমি কৃতঞ্জ।’ 
এন্টালির দীর্ঘদিনের বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা এবার টিকিট পাননি। তাঁর জায়গায় এবার তৃণমূলের টিকিটে লড়বেন তাঁর ছেলে তথা ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপন সাহা। তিনিও এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে নামলেন। সন্দীপন বলেন, ‘দল আমার উপর ভরসা রেখেছে। সেই ভরসার মর্যাদা রাখতে হবে।’ 
পাশাপাশি, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভা ভোটে ‘নতুন মুখ’ না হলেও বালিগঞ্জে তিনি অবশ্যই নয়া মুখ। খড়দহের বদলে তিনি এবার লড়বেন কলকাতার বালিগঞ্জ থেকে। বেহালার দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী বদল হয়েছে। বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী করেছেন মমতা। রত্না বলেন, ‘আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। মানুষের জন্য কাজ করছি। আবার সেই দায়িত্ব পেয়ে খুশি।’ অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সতীর্থ, প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ