নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মণ্ডপের ভিতর এলইডি স্ক্রিনের সামনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পুজো উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুজো উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহরমপুর থানার অযোধ্যানগরের পুজো মণ্ডপে তখন কচিকাঁচাদের ভিড়। হঠাৎ ভিলেন হয়ে উঠল বৃষ্টি। রবিবার সন্ধ্যায় ঝমঝমিয়ে শুরু হল বৃষ্টি। মুখ্যমন্ত্রী পুজোর উদ্বোধন শুরু করতেই বৃষ্টি থেমে গেল। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় গোটা পুজো মণ্ডপ হাততালিতে মুখরিত হতে থাকে। অযোধ্যানগরের পাশাপাশি এদিন মুর্শিদাবাদের ১৬টি পুজোর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ফলে সন্ধ্যা থেকেই কার্যত পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে যায়। অযোধ্যানগরে হাজির ছিলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র ও জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ। এছাড়া প্রতিটি পুজোর উদ্বোধনে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও পুলিশ আধিকারিকরা হাজির ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহরমপুরের তিনটি বিগ বাজেটের পুজোর উদ্বোধন করেন। এদিন বহরমপুরের বানজেটিয়া অক্ষয় সমিতি ও বটতলা ভট্টাচার্যপাড়া পুজো কমিটির পুজোর উদ্বোধন হয়। পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা আশাবাদী, উৎসবের দিনগুলিতে তাদের মণ্ডপে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী ভিড় করবেন।
লালবাগ মহকুমায় জিয়াগঞ্জ শহরের কাশীগঞ্জ বিবেক সঙ্ঘ, সৈদুগঞ্জ যুবক সঙ্ঘ এবং কুঞ্জচ্ছায়া ক্লাবের পুজোর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কুঞ্জচ্ছায়ার থিম ‘সোনার সুতোয় আমার মা’। মণ্ডপসজ্জার মধ্যে দিয়ে টেরাকোটা ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে তুলে ধরা হয়েছে। সৈদুগঞ্জ যুবক সঙ্ঘের থিম ‘নবান্ন’। দশম বছরে কাশীগঞ্জ বিবেক সঙ্ঘের এবারের থিম ‘মাটির টানে মায়ের কাছে’। মাটির পুতুল, বাঁশ, বেতের তৈরি রকমারি জিনিসপত্র দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। পুজোর প্রধান উপদেষ্টা পরিমল সরকার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এদিন আমাদের পুজোর উদ্বোধন করেন। আমরা এবং এলাকাবাসী সকলেই খুব খুশি।
কান্দি বাগডাঙা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি ও জনপ্রিয় সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। খড়গ্রামে পুনিয়া তরুণ তীর্থ ক্লাবের পুজোও উদ্বোধন হয়। মুখ্যমন্ত্রী রঘুনাথগঞ্জে চৈতক অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং বিবেকানন্দ ক্লাব সর্বজনীনের দুর্গাপুজো উদ্বোধন করেন। সূতির শান্তি দুর্গাপুজো কমিটি এবং সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান টাউন ক্লাবের পাশাপাশি ফারাক্কা শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হয়। রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদের ৫০টির বেশি ঘাটে মানুষজন নির্বিঘ্নে তর্পণ সারেন। তবে বহরমপুর শহরজুড়ে মহালয়ার ভোরের আগে রাতভর শব্দবাজির দাপট ছিল। মহালয়ার পুণ্যতিথিতে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ শেষ করার পর এদিন থেকেই জেলাবাসী কার্যত পুজোর উন্মাদনায় গা ভাসান।