Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শেষ প্রচারে ঝড় মমতার, সুলেখা থেকে ভবানীপুর, বিজেপিকে উৎখাতের ডাক

২৬’এর মহারণের শেষ লগ্নে মমতা-ঝড়ের সাক্ষী থাকল কলকাতা। আর সেই ঝড়ের দাপটে বিজেপিকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেওয়ার শপথ নিলেন অগণিত সাধারণ মানুষ। সুলেখা থেকে ভবানীপুর— পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে এগিয়ে চললেন বাংলার অগ্নিকন্যা।

শেষ প্রচারে ঝড় মমতার, সুলেখা থেকে ভবানীপুর, বিজেপিকে উৎখাতের ডাক
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, অর্ক দে, স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ২৬’এর মহারণের শেষ লগ্নে মমতা-ঝড়ের সাক্ষী থাকল কলকাতা। আর সেই ঝড়ের দাপটে বিজেপিকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেওয়ার শপথ নিলেন অগণিত সাধারণ মানুষ। সুলেখা থেকে ভবানীপুর— পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে এগিয়ে চললেন বাংলার অগ্নিকন্যা। সাড়ে ১৬ কিমি রাস্তা, পুরোটাই পায়ে হেঁটে। মাঝে সামান্য সময়ের জন্য বাইকে। সোমবার, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর শেষ প্রচারে জনস্রোতের ঢেউ আছড়ে পড়ল মহানগরের বুকে। সেই জনপ্লাবনকে সামনে রেখেই বিজেপিকে উৎখাতের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলের শুরুতেই তাঁর হুংকার, ‘বিজেপির দিন শেষ। দ্বিতীয় দফার ভোটেও ওদের গণতান্ত্রিকভাবে মুছে দিন। উৎখাত করে দিন বাংলা থেকে। তারপর কীভাবে দিল্লি থেকে ওদের হটাতে হয়, সেটা আমরা দেখে নেব।’ বিজেপি বিরোধী এই লড়াইয়ে মমতার হাত শক্ত করতে এদিনের মিছিলে পা মেলান আরজেডি নেতা তথা বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। ছিলেন তৃণমূলের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক এবং দলীয় প্রার্থীরাও।

Advertisement

গত ২৪ মার্চ উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচনি কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ৩৫ দিন পর, প্রচারের শেষ দিনেও তিনি একই মেজাজে মানুষের অধিকারের লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে গেলেন। দুপুর ৩ টে ৪৫ নাগাদ সুলেখা মোড়ে পৌঁছেই এদিনের ‘মেগা র‍্যালি’র সুর বেঁধে দেন বাংলার মানুষের ‘পাহারাদার’। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের আত্মসম্মান রক্ষার যুদ্ধ। এই যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, যা ওরা কেড়ে নিতে চেয়েছে। ভোটে এই হয়রানির বিরুদ্ধে জবাব দিন।’ মমতার বেঁধে দেওয়া সুরেই গলা মেলালেন রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মা-বোনেরা। স্লোগান তুলল মিছিলে পা মেলানো হাজারো তৃণমূল কর্মী, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে আক্রমণ শানিয়ে মমতার হাত শক্ত করার অঙ্গীকারও করলেন। এভাবেই ঢাকুরিয়া ব্রিজ, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি হয়ে ‘বিজেপির বিদায়ী ঘণ্টা’ বাজাতে বাজাতে ভবানীপুরে পৌঁছাল মিছিল। তখনও কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় (সন্ধ্যা ৬টা) শেষ হতে ১৫ মিনিট বাকি।   
এবার ভোট-প্রচারের শুরু থেকেই এসআইআরের নামে বাংলার যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব মমতা। লাগাতার বিজেপি-কমিশনকে দাঁড়িপাল্লার দু’দিকে বসিয়ে তুলোধোনা করে গিয়েছেন। প্রতিবার ভোটের আগে এই রুটেই পদযাত্রা করে প্রচার শেষ করেন তৃণমূলনেত্রী। কিন্তু, এবারের মিছিল কিছুটা হলেও আলাদা। কারণ, এদিনের মিছিলে অংশ নিলেন নাম বাদ পড়া বহু যোগ্য ভোটার, যাঁদের ভোটাধিকার এখনও ঝুলে ট্রাইবুনালের দরজায়। এর রেশ ধরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন দলনেত্রী। বিজেপি-কমিশনের ভোট লুটের ছক বানচাল করতে ২৯ এপ্রিল তাঁর সহযোদ্ধা হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন ১৪২টি কেন্দ্রের ভোটারদের। কোনো রাখঢাক না রেখে বললেন, ‘এরা (বিজেপি-কমিশন) অনেক কিছু প্ল্যান করে রেখেছে। প্রতিটি প্ল্যান ভেস্তে দিতে হবে। এরা আপনাদের এসআইআরের লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রান করেছে। আরও একবার লাইনে দাঁড়িয়ে এঁদের এই চক্রান্তের জবাব দিন। তবে ভোট দিয়েই চলে আসবেন না। ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করবেন। দেখবেন যে চিহ্নে ভোট দিলেন, সেই চিহ্নেই পড়ল কি না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ