নিজস্ব প্রতিনিধি, সিঙ্গুর: সিঙ্গুরে সভা করে বঙ্গবাসীকে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, ১০০ দিনের কাজ এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পের টাকা না দেওয়ায় মোদি-শাহের সরকারকে বুধবার ‘জুমলা’ বা মিথ্যাবাদীর সরকার বলে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জবাবস্বরূপ এদিনই বাংলার মানুষের জন্য ৩৩ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকার ১৬৯৫টি প্রকল্প উপহার দিলেন। অতঃপর মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘মনে রাখবেন, আমরা কথা দিলে কথা রাখি। নির্বাচনের আগে কথা দিয়ে ভোট মিটলেই গায়েব হয়ে যাই না।’
কেন্দ্র বাংলার ১১ লক্ষ প্রান্তিক মানুষকে প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পের টাকা না দেওয়ায় বাংলার বাড়ি প্রকল্প শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১২ লক্ষ মানুষকে বাড়ি তৈরির অনুদান দেয় রাজ্য। এজন্য সম্পূর্ণ রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ করা হয় ১৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। এদিন আরও ২০ লক্ষ মানুষকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য খরচ হচ্ছে ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এদিন সিঙ্গুরের মঞ্চে ১০ জন উপভোক্তার হাতে বাংলার বাড়ির অনুমোদনপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুরে জাতীয় সড়কের ধারের একটি মাঠে হয় অনুষ্ঠান। বালি হল্ট থেকে অনুষ্ঠান স্থল পর্যন্ত জাতীয় সড়ক বরাবর বাংলার বাড়ি প্রকল্পের লোগোযুক্ত পতাকা ব্যানারে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। প্রতিটি জেলা এদিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়েছিল। প্রতিটি জেলা সদরেই বাংলার বাড়ির লোগো এবং কাটআউট দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। এদিন সিঙ্গুরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, মানস ভুঁইয়া, ফিরহাদ হাকিম, ইন্দ্রনীল সেন, বেচারাম মান্না প্রমুখ। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ছাড়াও ছিলেন সেচসচিব মণীশ জৈন, কৃষিসচিব ওঙ্কার সিং মিনা এবং পঞ্চায়েত সচিব পি উলগানাথন।
রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েও লাভ হয়নি। আর এদিন ঘাটালের সাংসদ দেবের উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী ১৫০০ কোটি টাকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া সিঙ্গুর থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যে উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের ৩৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ ২১ বছর পর ফের বাংলার প্রাথমিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে এল বিশ্ব ব্যাংক। আগামী পাঁচবছরে খরচ হবে প্রায় ৩৭০০ কোটি টাকা। এর ৭০ শতাংশ সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। বাকি ৩০ শতাংশ খরচ হবে রাজ্যের কোষাগার থেকে। আবার ৫০টি সুফল বাংলা ভ্রাম্যমাণ স্টল এবং ১৫০টি কাস্টম হায়ারিং সেন্টারের উদ্বোধন হয়। দেওয়া হয় ৪৪৬০টি পাট্টা। এছাড়া বাংলার শস্যবিমার মাধ্যমে ৮০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। ৫,৬৯৪ কোটি অর্থমূল্যের মোট ১০৭৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ২,১৮৩ কোটি টাকার ৬১৬টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন মমতা। এদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করার পদক্ষেপ নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেব। সভায় সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। নিজস্ব চিত্র