নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ধর্মতলা থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কলকাতার রাজপথে মমতার মিছিলে সঙ্গী ছিলেন সাধারণ মানুষ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ধর্মতলা থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কলকাতার রাজপথে মমতার মিছিলে সঙ্গী ছিলেন সাধারণ মানুষ।
কয়েকদিন ধরে কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকার উচ্ছেদের ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে একাধিক রেল স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গন্ডগোলের খবরও সামনে এসেছে। হকার উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার কলকাতার রাজপথে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হকারদের পাশে তৃণমূল রয়েছে, এই বার্তাই দেওয়া হয়। ধর্মতলা থেকে হকার-বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিল করে এগিয়ে যান মমতা। রাজ্যে পালাবদলের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম পদযাত্রা।
শামিল ছিলেন কয়েকশো মানুষ। এমনকি রাস্তার ধারে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষ মমতাকে দেখতে পেয়ে ছবি তুলেছেন, তাঁর হাত ধরার চেষ্টা করেছেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে এদিনের কর্মসূচি নিয়ে মমতা লিখেছেন, ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ ও সাধারণ মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়ার এই বর্বরোচিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধর্মতলার লেনিন সরণি থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করলাম। বিজেপি সরকারের এই জনবিরোধী অপশাসন আমরা মেনে নেব না। উচ্ছেদ অভিযানের নামে হাজার হাজার গরিব, খেটে-খাওয়া মানুষের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। একটি পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎসকে ধ্বংস করে দেওয়া, কোন ধরনের ‘বিকাশ’? বিকল্প কর্মসংস্থান বা সঠিক পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ আমরা কোনোভাবেই মানব না।’
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরো লিখেছেন, ‘বিজেপির অত্যাচারে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা আজ বিপন্ন। শুধু তাই নয়, রাজ্যজুড়ে চলছে এক চরম অরাজকতা। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের উপর প্রতিনিয়ত নেমে আসছে পরিকল্পিত সন্ত্রাস। মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার, রাতের অন্ধকারে হয়রানি আর বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার নোংরা চক্রান্ত—আমরা প্রতিহত করবই। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার্থে, জনবিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।’
এদিন মমতার পাশে ছিলেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু যে এলাকা দিয়ে মমতার মিছিল গিয়েছে সেখানকার বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিছিলে দেখা যায়নি। তাছাড়া মমতাপন্থী সাংসদ, বিধায়ক, নেতাদের অনেককেই দেখা যায়নি গরিব মানুষের জন্য এই আন্দোলন কর্মসূচিতে।