নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আচমকাই পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হচ্ছেন বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে থাকা আরএন রবি। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক জল্পনা। সম্প্রতি শহরের চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে নিজের নাম তুলেছেন বোস। তবে কি আগামী বিধানসভা ভোটে ‘পদ্মফুল হাতে’ দেখা যাবে তাঁকে? শুরু হয়েছে চর্চা।
নির্ধারিত কর্মসূচিতে বৃহস্পতিবার বাগডোগরায় পৌঁছেছিলেন বোস। সেখান থেকে সন্ধ্যায় হঠাৎই দিল্লি উড়ে যান। সেখানে গিয়েই ইস্তফাপত্র জমা দেন। তাঁর এই হঠাৎ পদত্যাগকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘চাপ সৃষ্টি’র প্রতিফলন হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির’ লক্ষ্যে শাহের এই চাপ বলেই দাবি মমতার। একই সঙ্গে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফা ভাবে আরএন রবি পরবর্তী রাজ্যপাল হচ্ছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন আচরন যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী জানিয়ে সমাজ সাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি কেন্দ্রের সম্মান জানানো উচিত এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেন বোস। বিগত তিন বছরে তাঁর বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে তাঁর সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে নবান্নের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় রাজভবন। এছাড়াও নানা বিল আটকে রাখা থেকে শুরু করে বিধানসভার পরিচালনা সংক্রান্ত নানান ইস্যুতে রাজ্য-রাজভবন দ্বৈরথ উঠে আসে সংবাদ শিরোনামে। রাজভবনের এক অস্থায়ী মহিলা কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েছিলেন বোস।
তবে যে আর এন রবিকে বাংলার রাজ্যপাল করে পাঠানো হচ্ছে, তাঁর কাজকর্ম ঘিরেও রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। ডিএমকে পরিচালিত তামিলনাড়ুর এম কে স্ট্যালিন সরকারকে পদে পদে বিব্রত করে শিরোনামে এসেছিলেন আর এন রবি। স্ট্যালিন মন্ত্রিসভার এক সদস্যকে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে সরিয়েও দিয়েছিলেন তিনি। নিজের এক্তিয়ার বর্হিভূত কাজকর্ম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও ভর্ৎসিত হয়েছিলেন রবি। এহেন একজন ব্যক্তিকে ভোটের মুখে বাংলায় পাঠানোর পিছনে সুনির্দিষ্ট ‘অভিসন্ধি’ রয়েছে বলে মনে করছে তৃণমূল শিবির।