


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই তোপ দেগেছিলেন, কেন্দ্রের নীতির জন্যই গোটা দেশে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেছিলেন, আম জনতাকে এই সমস্যা থেকে রেহাই দিতে যথাযথ পদক্ষেপ করবে রাজ্য। এই ঘোষণার একদিনের মধ্যেই প্রশাসনিক বেষ্টনি মজবুত করলেন মমতা। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংশ্লিস্ট আধিকারিক, জেলাশাসক এবং পদস্থ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ঠেকানোর রুপরেখা বেঁধে দিলেন তিনি। এদিনের বৈঠকে আধিকারিকদের তিনি গৃহস্থালি সিলিন্ডারের অন্যত্র ব্যবহার, মজুতদারি, কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্যাসের কালোবাজারি করতে গিয়ে কেউ ধরা পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের। বৈঠক শেষে নবান্নের প্রকাশিত এসওপিতেও গ্যাসের মজুতদারি ও কালোবাজারি বিরোধী অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, ২৫ থেকে ৩০ দিন অন্তর গ্যাস সরবারহের কেন্দ্রীয় ঘোষণা আসলে মজুতদারদের হাত শক্ত করেছে। বাড়িয়েছে কালোবাজারির সম্ভাবনাও। এই পরিস্থিতিতে বাংলার অগ্নিকন্যার প্রধান লক্ষ্য, রাজ্যের মানুষকে এই সংকটের হাত থেকে রক্ষা করা। ফলে অবৈধভাবে রাজ্যের বাইরে গ্যাসের পাচার এড়াতে তিনি
পুলিশ কর্তাদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। এবিষয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর
স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্যের জনগণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গৃহস্থ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের পর্যাপ্ত গ্যাসের সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনেরই দায়িত্ব। ফলে অবৈধভাবে গ্যাস রপ্তানি কোনোভাবে বরদাস্ত করা হবে না।
এদিন সকালেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রান্নার গ্যাসের ঘাটতির সংকটের খবর এসে পৌঁছেছে নবান্নে। এমনকি দীঘার জগন্নাথ ধামেও গ্যাসের আকালের কোপ পড়েছে প্রসাদ বিতরণে। অন্যদিকে আবার নবান্নের দু’টি ক্যান্টিনে রান্নার কাজ চালাতে মাত্র এক সপ্তাহের মতো জালানি অবশিষ্ট আছে। এমন একাধিক ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতে দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা। বলেন, ‘অনেক এলাকায় আজও গ্যাসের ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ, হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ছোটো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’ এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপিসিএল, বিপিসিএল-এর মতো সংস্থাগুলিকে রান্নার গ্যাস সরবারহ বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে এলপিজি পরিবহণের জন্য ‘গ্রিন করিডর’ তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকেও সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। তবে এই কাজের জন্য শুধুমাত্র জেলা প্রশাসনের উপর ভরসা রাখছেন না মমতা। রাজ্যস্তর থেকে প্রতিদিন পর্যালোচনা চালিয়ে যেতে স্কুলশিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও বাণিজ্য, খাদ্য ও সরবরাহ, পরিবহণ, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিবদের পাশাপাশি ডিজিপি, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা), কলকাতা পুলিশ কমিশনারদের নিয়ে পর্যবেক্ষণ কমিটিও গড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ গুজব এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বলেও সূত্রের খবর। যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এদিনের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন মুধ্যমন্ত্রী। তার জন্য প্রচার অভিযান চালিয়ে সব স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিচ্ছে নবান্ন।