নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সমগ্র দেশবাসীর জানার অধিকার আছে। সংসদীয় যে প্রতিনিধিরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ গোটা বিশ্বকে জানাতে বেরিয়েছেন, তাঁরা ফিরে আসার পর সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সরকার সবটা জানাক—এই আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, অন্য কারও জানবার আগে, দেশবাসী জানুক।
গত ২২ এপ্রিল পেহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার টাটকা স্মৃতি অক্ষত আপামর ভারতবাসীর। তারপর থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশজোড়া ওঠা প্রতিবাদের আওয়াজ অব্যাহত। এই পর্বে ভারতীয় সেনার তরফে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দেওয়ার প্রতিটি পর্ব দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূলের ঘোষিত অবস্থান, দেশ সবার আগে। তাই দেশের সুরক্ষা এবং অন্য রাষ্ট্রের বিষয়ে কেন্দ্রের সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার পাশে থাকবে তৃণমূল। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রচারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে এখন সফররত সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল। যা দেখে গর্বিত ও আনন্দিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষাপটেই এদিন তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আমি যেমনটি বারবার বলেছি, জাতীয় স্বার্থে এবং আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেন্দ্র যখন কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে, তখন কেন্দ্রের পাশে থেকেছে তৃণমূল। তাই সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল নিরাপদে দেশে ফেরার পর সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকবার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করছি। কারণ আমি মনে করি, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ক্রমবর্ধমান পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার অধিকার দেশবাসীর রয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশে ঘুরছে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে তৈরি সাতটি দল। যার একটি দলে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দলটি এখন জাপানে সফররত। আজ, থেকে শুরু হবে তাঁদের দক্ষিণ কোরিয়া সফর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের জাতীয় পতাকার ছবি তুলে ধরে যে বার্তা মমতা দিয়েছেন, সেটার পক্ষেই সকলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এই পর্বেই ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জাপান। ফলে অপারেশন সিন্দুর এবং সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের বিদেশ সফর থেকে কী তথ্য উঠে আসে, সেটা সংসদের অধিবেশনের মাধ্যমে কেন্দ্র দেশবাসীকে জানাক, এমনটাই আর্জি রাজনৈতিক মহলের। তাতে একদিকে যেমন, কেন্দ্রের কার্যকলাপ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান পাওয়া যাবে, অন্যদিকে তেমনই অন্য ভারত সম্পর্কে অন্য দেশ কীভাবে পাশে থাকছে, সেই তথ্যও মিলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।