মঙ্গল ঘোষ, মালদহ: পুজোর দিনগুলিতে তিলোত্তমা নগরীতে এবারও গম্ভীরা গান করার সুযোগ পেল মালদহের ফতেপুর গম্ভীরা দল। পঞ্চমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতি সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের সামনে এই দল কলকাতার এসপিডি ব্লকের বাঘাযতীন বিবেকানন্দ মিলন সংঘের মঞ্চে গম্ভীরা গান এবং মুখোশ নাচ তুলে ধরবে। দলটির নেতা বাবলু মণ্ডল বলেন, দু’মাস আগে কলকাতার ওই ক্লাবের থিম শিল্পী গিরিশ ঘোষ মালদহে আসেন। সেখানে থিমের বিষয়ে যাবতীয় আলোচনা হয়। এবারে ওই ক্লাবের থিম লোকগাথা। মণ্ডপে গম্ভীরার অনেক দৃশ্য থাকছে। আমরা সেখানে মালদহের বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরব।
ওই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মালদহ জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র গৌড় থেকে আদিনা, জহরা থেকে মনস্কামনা মায়ের মন্দির সহ ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থানগুলির কথা তুলে ধরবেন শিল্পীরা। সেই দলে রয়েছেন বাবলু মণ্ডল, সমিত বসাক, বিবেক বরণ মণ্ডল, চৈতন্য মণ্ডল, সুশান্ত রবিদাস সহ আরও অনেকে।
ইংলিশবাজার শহর থেকে ১৫ কিমি দূরে ফতেপুর গ্রাম। গ্রামের নামানুসারে ২০১৬ সালে গম্ভীরা দল তৈরি করেন সেখানকার শিল্পীরা। দলের সদস্যরা সবাই স্নাতক। দলের কেউ আবার পেশায় স্কুলশিক্ষক। গম্ভীরা মালদহের নিজস্ব লোকগান ও লোকনৃত্য ধারা। সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে বাবুলরা দল তৈরি করেছেন। কাজের ফাঁকে জেলার ঐতিহ্যবাহী এই লোকসংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে তত্পর তাঁরা।
এর আগে বাংলাদেশের বইমেলা, কলকাতার নজরুল মঞ্চ, কোচবিহারের রাসমেলা সহ নানা জায়গায় মালদহের গম্ভীরাকে তুলে ধরেছেন তাঁরা। নবপ্রজন্মকে এই সংস্কৃতির সংর্স্পশে আনতে বিভিন্ন কলেজে মউ স্বাক্ষরিত করেছে এই দলটি। কলেজছাত্রদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন তাঁরা। গম্ভীরা গানের শিল্পীরা ।-নিজস্ব চিত্র