নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়ায় নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিককে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। হাওড়ার বেলুড়ের একটি নেশার ঠেক থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম স্বপন বারুই। বছর চল্লিশের স্বপন কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি সহ ৩৬টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুজোর ছুটি নিয়ে বিরোধ হলেও নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক মদন রানাকে নিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল স্বপনের। অভিযোগ, পুজো তো বটেই, পুজোর পরেও ছুটি দেবেন না বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রায়ই আবাসিকদের গালিগালাজ করতেন মদন। অপরাধ জগতে হাতপাকানো চড়া মেজাজের স্বপন সেসব নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই রাগ মেটাতেই সে খুনের পরিকল্পনা করে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে নেশামুক্তি কেন্দ্রের ভিতরে সে মদনকে শিল-নোড়া দিয়ে থেঁতলে খুন করে। সেই কাজে তার সঙ্গী ছিল সানি মল্লিক নামের এক তরুণ। দু’জনে খুন করার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরমধ্যেই লিলুয়ায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সানিকে গ্রেফতার করে। এরপর মঙ্গলবার রাতে হাওড়ায় ফের অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয় একটি নেশার ঠেক থেকে স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর রাতেই পুলিশ বেলুড়ের একটি ঠেকে স্বপনের খোঁজে হানা দিয়েছিল। কিন্তু সেদিন সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, স্বপন ভেবেছিল, পুলিশ বোধহয় দ্বিতীয়বার আর হাওড়ায় অভিযান চালাবে না। সেই ভেবেই সে পুরনো নেশার ঠেকে গিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার স্বপনকে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সহ খুনের ঘটনা পুনর্নির্মাণ করা হবে।
তবে মদন রানা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দু’জন গ্রেফতার হলেও বেশকিছু প্রশ্ন নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে চর্চা অব্যাহত। নেশামুক্তি কেন্দ্রের আবাসিক স্বপন খুন সহ ৩৬টি মামলায় অভিযুক্ত। ওই স্তরের একজন অপরাধীকে নেশামুক্তি কেন্দ্রে কেন রাখতেন মদন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সাধারণ মানুষের এবং পুলিশের একাংশের। মদন নিজেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন না। নিজেও ছিলেন মাদকাসক্ত। একবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বিপুল টাকার লোভে মদন, কুখ্যাত অপরাধীদের নেশামুক্তি কেন্দ্রে নিয়ে আসতেন কি না, সে প্রশ্নও উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত, উত্তরপাড়ার শান্তিনগরে প্রায় পাঁচ বছর আগে নেশামুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন মদন। সেই কেন্দ্রের ভিতরেই তাঁর নিজস্ব ঘরে ১২ সেপ্টেম্বর সকালে মদনকে জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল।