নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার লোন নিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে বউবাজার থানায় দায়ের করা সেই মামলায় অবশেষে মূল অভিযুক্তকে গুজরাত থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এল কলকাতা পুলিস। নাম রাহুল হেমরাজ। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশালের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী আদালতে বলেন, ‘চক্রের বাকি চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আর গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুজরাতে একটি প্রতারণার মামলায় লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে। যাতে কোনও অবস্থায় ওই অভিযুক্ত দেশের বাইরে চম্পট দিতে না পারে।’ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে বউবাজার থানা এলাকার একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ওই বিপুল টাকার লোন নেন অভিযুক্তরা শেয়ার ট্রেডিং ব্যবসার নামে। পরবর্তী সময় লোনের টাকা শোধ না করে অভিযুক্তরা চম্পট দেন। অভিযোগকারী সংস্থার তরফে বহুবার খোঁজখবর চালিয়েও কারও সন্ধান মেলেনি। ২০২১ সালে বউবাজার এলাকার অভিযোগকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির তরফে ব্যাঙ্কশাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে বিচারক বউবাজার থানাকে নির্দেশ দেন এফআইআর দায়ের করে ঘটনার তদন্ত করার জন্য। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিস হন্যে হয়ে খুঁজেও অভিযুক্তদের সন্ধান পাচ্ছিল না। অবশেষ কলকাতা পুলিস গোপন সূত্রে খবর পায়, চক্রের মূল অভিযুক্ত গুজরাতে রয়েছে। এরপরই পুলিসের একটি টিম সেখানকার পুলিসের সহযোগিতা নিয়ে রাহুল হেমরাজ নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়। সেখানকার আদালতে হাজির করার পর মঙ্গলবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়।



