নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর ও নয়াদিল্লি: প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের পর এবার ডিম থেরাপির শিকার হলেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বুধবার কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে একুশে জুলাইয়ের সভা নিয়ে কর্মিসভা করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন সাংসদ। অভিযোগ, বিধায়কের বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সাংসদকে উদ্দেশ্য করে কালো পতাকা দেখানো হয় বিজেপির তরফে। ঘটনার সময় ফেসবুক লাইভে সরব হন কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি। এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। দলীয় সাংসদ মহুয়া মৈত্রর ওপর ডিম ছোঁড়ার ঘটনায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার হস্তক্ষেপ দাবি করল তৃণমূল। দলের সাংসদ সৌগত রায় বুধবার লোকসভা সচিবালয়ে ফোন করে স্পিকারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করানোর চেষ্টা করেন। যদিও সরাসরি স্পিকারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি। তবে ওম বিড়লার অফিসকে বিষয়টি জানিয়েছেন সৌগতবাবু। একইভাবে আজ ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে, প্রয়োজনে দেখা করে দলীয় সাংসদদের ওপর হামলার ঘটনাটি জানাবেন।
এবিষয়ে বিজেপির মণ্ডলের সহ সভাপতি পায়েল মিত্র বলেন, সাংসদ মহুয়া মৈত্র বিধায়কের বাড়িতে এসেছেন। উনি সনাতনীদের অপমানজনক কথা বলেছেন। উনি এলাকা অশান্ত করতে চান। তাই সাধারণ মানুষ ডিম ছুড়েছে। এদিন তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভাপতির ডাকা একুশে জুলাইয়ের বৈঠকে নেতাদের বেশিরভাগই অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন না খোদ বিধায়ক। ফলে এই বৈঠক ভেস্তে যায়। বিধায়কের সঙ্গে পুরনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তৃণমূল নেতৃত্ব ওই বৈঠক এড়িয়েছেন কি না, তা নিয়েও চর্চা চলছে।
ওই পর্বেই বিধায়কের বাড়ির নীচে কালো পতাকা ও ডিম নিয়ে জমায়েত করতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে মহুয়া মৈত্রকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেয় তারা, যা দেখে সাংসদ ফেসবুক লাইভ করেন। সাংসদ লাইভে বিজেপিকে আক্রমণ শুরু করা মাত্রই বাড়ির নীচ থেকেই সাংসদকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া শুরু হয়। সাংসদ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপির লোকজন রাস্তা ব্লক করে আমাদের বেরতে দিচ্ছে না। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছে।’
এনিয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অতুল ভি বলেন, ‘আগাম খবর না দিয়েই উনি এসেছিলেন। জেলাশাসকের কাছ থেকে জানামাত্র ওখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ওঁকে বলা হয়েছিল, আমরা এসকর্ট করে বের করে দেব। কিন্তু, উনি মানেননি। শেষপর্যন্ত অবশ্য ওঁকে এসকর্ট করে বের করা হয়েছে।’