Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিষাদলের অবসরপ্রাপ্ত ফুড ইন্সপেক্টর ও তাঁর স্ত্রীর প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা

মহিষাদলের অবসরপ্রাপ্ত ফুড ইন্সপেক্টর ও তাঁর স্ত্রী সাইবার প্রতারণায় ৩৭লক্ষ ৮০হাজার টাকা খোয়ালেন।

মহিষাদলের অবসরপ্রাপ্ত ফুড ইন্সপেক্টর ও তাঁর স্ত্রীর প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মহিষাদলের অবসরপ্রাপ্ত ফুড ইন্সপেক্টর ও তাঁর স্ত্রী সাইবার প্রতারণায় ৩৭লক্ষ ৮০হাজার টাকা খোয়ালেন। মহিষাদল থানার এক্তারপুর গ্রামের সুদামচন্দ্র বোদক ২০০৯সালে খাদ্যদপ্তরের ইন্সপেক্টর পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। এখন বয়স ৭৭বছর। তমলুক শহরে মানিকতলায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে সুদামচন্দ্রবাবু ও তাঁর স্ত্রী তারারানি বোদকের দু’টি ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট আছে। দু’টি অ্যাকাউন্টে একটি ফোন নম্বর যোগ রয়েছে। দু’টি অ্যাকাউন্টে অনলাইন পরিষেবা যুক্ত করা হয়। ১৫সেপ্টেম্বর একদিনে দু’জনের এফডি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা খোয়া গিয়েছে। গোটা ঘটনায় মর্মাহত অবসরপ্রাপ্ত ওই সরকারি কর্মী তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী পরিচয় দিয়ে সুদামবাবুর মোবাইলে একটি অ্যাপের লিঙ্ক পাঠানো হয়েছিল। তাদের অ্যাকাউন্ট আপডেট করার নামে ওই অ্যাপ ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সুদামবাবুর বক্তব্য, বাড়ির ছোটরা সেই অ্যাপ ইনস্টল করে ফেলে। তারপর আমাদের মোবাইল অ্যাকসেস হ্যাক হয়ে যায়। সাইবার অপরাধীরা মোবাইলের অ্যাকসেস নিজের কব্জায় নিয়ে দু’জনের অ্যাকাউন্ট থেকে ঝড়ের গতিতে টাকা তুলে নেয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ওই ঘটনা ঘটে। মানিকতলায় অবস্থিত ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কে গিয়ে লেনদেনের ডিটেলস বের করার পর মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা।
তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের এফডিতে ভালো পরিমাণ টাকা থাকে। সেই সব অ্যাকাউন্টে সিঁদ কেটে টাকা বের করার চেষ্টা করছে সাইবার অপরাধীরা। ব্যাঙ্ক কর্মী পরিচয় দিয়ে অ্যাপ আপডেটের নামে সুদামচন্দ্রবাবুর মোবাইলের পুরো অ্যাকসেস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল সাইবার প্রতারকরা। অল্প সময়ের মধ্যে তারা ৩৭লক্ষ ৮০হাজার টাকা তুলে দু’জনের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেয়।
সুদামবাবু বলেন, আমি ২০০৯ সালে খাদ্যদপ্তরের ইন্সপেক্টর পদ থেকে অবসর নিয়েছি। স্ত্রী গৃহবধূ। আমরা দু’টি ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলাম। সেই অ্যাকাউন্টে কোনওভাবে ওই সাইবার প্রতারকদের নজরে পড়ে। তারপর অ্যাপ সেন্ড করে প্রতারণা করেছে। বাড়ির ছোটরা ওই অ্যাপ ইনস্টল করে দিয়েছিল। এভাবে নিমেষের মধ্যে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেবে ভাবতেও পারিনি। ব্যাঙ্কে গিয়ে সবটা জানার পর গোটা শরীর যেন অবশ হয়ে আসছিল। তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেছি। আমাদের মতো বয়স্ক মানুষরা যদি এভাবে প্রতারণার শিকার হই তাহলে বাকি জীবনটা কীভাবে কাটাব?
সম্প্রতি শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পাতন্দা গ্রামে এক গৃহবধূ সাইবার প্রতারণায় ১কোটি চার লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করিয়ে ঘরে বসে আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার নামে ফাঁদে ফেলে মাত্র ১০দিনে ১কোটি চার লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সাইবার প্রতারকরা। তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ এই মুহূর্তে ওই দু’টি বড় কেস ট্র্যাক করে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করছে। ডিএসপি(ডিইবি) শান্তব্রত চন্দ বলেন, মহিষাদলে বয়স্ক দম্পতির ৩৭লক্ষ ৮০হাজার টাকা সাইবার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ