বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: মহেশতলা এবং বজবজ কেন্দ্রে ভোট হল উৎসবের মেজাজে। দিনভর এমনই দৃশ্য নজরে এল। ভোটার থেকে বিভিন্ন প্রার্থী, প্রায় সকলেই একমত। যেমন ভোটার অর্ক বিশ্বাস বললেন, ‘এমন শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবের মেজাজে ভোট দেখিনি। কল্পনারও অতীত! কোনো গোলমাল, অভিযোগ নেই। গুলি চলেনি। বোমা ফাটেনি। তর্কাতর্কি নেই। একেবারে নিঃশব্দ ভোটবিপ্লব।’ বুধবার দুপুর ১২টা। বাওয়ালি গঙ্গাপ্রসাদ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে এক নিশ্বাসে কথাগুলি বলে গেলেন অর্ক। আনন্দের উচ্ছ্বাস তাঁর চোখেমুখে। অতীতে বুথে গিয়ে শুনতে হয়েছে, ‘আপনার ভোট পড়ে গিয়েছে! কিন্তু এবার আধা সামরিক বাহিনীর সতর্ক পাহারা এবং সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে যেভাবে ভোট হল তা স্মরণকালের মধ্যে প্রথম। এমন ব্যবস্থা আগেই হওয়া উচিত ছিল।’
বুঁইতা গ্রাম পঞ্চায়েতের বেতুয়াবাটি হাইস্কুলের ১৮৮ নম্বর বুথেও দেখা গেল সকাল থেকে লাইন। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী সকলেই ভোটের সুন্দর পরিবেশ পেয়ে অভিভূত। এক মহিলা বলেই ফেললেন, ‘এর আগে ভোটের সময় উদ্বেগে থাকতে হত। বাড়ির ছেলেটা বুথে বসে। ঠিকঠাক ফিরবে তো? এবার সেই চিন্তাই নেই। হুমকি দূর, কেউ কোনো কথাই বলেনি। ভোট পড়েছে পুরো অবাধে।’ বজবজের ১৩ নম্বর ১৪ ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র হল পি কে হাইস্কুল। পাঁচটি বুথ। মহিলা পরিচালিত এই বুথে ভোট দিয়ে খুশি চন্দ্রভান পাল এবং প্রবীণ চিকিৎসক দেবব্রত মণ্ডল, সমীরণ সিংহ প্রমুখ। তাঁরা বলেন, বহুদিন পর উপদ্রবহীন ভোট দেখলাম। নো দাদাগিরি।
ভোটকেন্দ্রের ভিতর জওয়ান থেকে প্রিসাইডিং অফিসার সকলে ভালো ব্যবহার করেছেন। বাড়তি পাওনা আরামদায়ক আবহাওয়া। এটাও অভূতপূর্ব! একই ছবি বজবজ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। মহিলা পরিচালিত এই ভোটকেন্দ্রে ভোটদান ছাপিয়ে গিয়েছে ৯০ শতাংশ। বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্তও দাবি করেন, ‘ভোট ভালো হয়েছে।’ পুজালির চেয়ারম্যান তাপস বিশ্বাস, বিজেপির বজবজের নেতা সবিতা চৌধুরী এবং হরিকৃষ্ণ দত্ত বলেন, ‘কিছু স্থানে সমস্যা তৈরির চেষ্টা হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনেছে কুইক রেসপন্স টিম। ভোট খুবই ভালো হয়েছে।’ মহেশতলার সারেঙ্গাবাদ হাইস্কুলে ভোটারদের চোখেমুখেও ছিল একই তৃপ্তির ছাপ। মহেশতলার বিজেপি প্রার্থী তমোনাথ ভৌমিক ও তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাসও বলেন, ‘ভোট খুব ভালো হয়েছে।’