সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ইডেনে প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলা। প্রত্যাশা ছিল, বোলারদের সৌজন্যে কামব্যাক করবে বঙ্গ ব্রিগেড। সামি-শাহবাজদের দাপটে দ্বিতীয় দিনে ৬৪ রানে মহারাষ্ট্রের ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ায় সেই আশাই জোরাল হয়। মনে হচ্ছিল, কোনোরকমে শতরানের গণ্ডি টপকাবে অ্যাওয়ে দল। কিন্তু টেলএন্ডারদের দাপটে বাংলাকেই চাপে ফেলল পৃথ্বী-ব্রিগেড। তনয় সাঙ্গভির দুরন্ত অর্ধশতরানে ভর করে প্রথম ইনিংসে মূল্যবান লিড মহারাষ্ট্রের ঝুলিতে। দ্বিতীয় দিনের শেষে তাদের স্কোর ৯ উইকেটে ২০৭। লিড ৬৪ রানের। ক্রিজে তনয়ের (ব্যাটিং ৫৭) সঙ্গী প্রদীপ ধাধে (ব্যাটিং ২২)।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ৬৪/৬ থেকে দুশোর বেশি স্কোর কীভাবে তুলল মহারাষ্ট্র? সোমবার তো রীতিমতো বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন সামি। পর পর দুই বলে ফেরান পৃথ্বী সাউ ও দিগ্বিজয় পাটিলকে। মঙ্গলবারও তাঁর শিকার সিদ্বেশ বীর (২৮)। শাহবাজও তিন উইকেট তুলে নেন। কিন্তু লাঞ্চের পর তনয় ও রাজবর্ধন হাঙ্গেরকর (২৮) আক্রমণ করলে বাংলা গুটিয়ে যেতে থাকে। দায় এড়াতে পারবেন না ক্যাপ্টেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। অ্যাওয়ে দলকে অল-আউট করার লক্ষ্যে তাঁর আক্রমণাত্মক মনোভাবই চোখে পড়েনি। পাশাপাশি রোদ উঠার পর উইকেটও কিছুটা ব্যাটিং উপযোগী হয়ে ওঠে। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহারে ভুল হয়নি মহারাষ্ট্রের টেলএন্ডারদের। অষ্টম উইকেটে তনয়-হাঙ্গেরকর যোগ করেন ৪৪ রান। এরপর শেষ উইকেটেও তনয়-প্রদীপ জুটির সংগ্রহ ৪৯। তাতেই দুশোর গণ্ডি টপকায় মহারাষ্ট্র। তবে চা বিরতির পর খারাপ আলোর জন্য আর খেলা হয়নি। ইডেন ছাড়ার সময় তনয় বলছিলেন, ‘উইকেটে এখনও বোলারদের জন্য সুবিধা আছে। তবে আমরা ঝুঁকি নিইনি। লক্ষ্য ছিলে ক্রিজে থাকার। তাতে সফল।’ আর বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতনের মন্তব্য, ‘আমি বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। ওদের ব্যাটাররা ভালো খেলেছে। তৃতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’



