হেরে খাদের কিনারায় ইস্ট বেঙ্গল, ছন্নছাড়া ফুটবল ডেভিডদের  প্রশ্নের মুখে কোচ হাবাস
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইস্ট বেঙ্গল- ০           :                     আল সিব- ২
 (অ্যাক্সেল ও জাহির)

Advertisement

সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: এসিএল-টু’র ম্যাচকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আইএফএ শিল্ড ফাইনালকে অবহেলা করেছিলেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। মর্যাদার ডার্বি হেরে চাপ বাড়িয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু এশিয়ান মঞ্চেও দল গ্রুপ পর্বের গণ্ডি টপকাতে পারল কোথায়? ছন্নছাড়া ফুটবল আর কোচের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তের খেসারত দিল ইস্ট বেঙ্গল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’র গ্রুপ পর্বে ঘরের মাঠে ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচে আল সিবের কাছে হেরে খাদের কিনারায় রশিদরা। ম্যাচের পর ম্যাচ বিদেশি স্ট্রাইকারদের বেঞ্চে রেখে দল সাজানোর যুক্তি কী? তা নিয়ে এবার জবাব দিতেই হবে হাবাসকে। ঘরের মাঠে ০-২ ব্যবধানে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে কার্যত বিদায় নিশ্চিতের পাশাপাশি টেবিলে সবার শেষে রইল ইস্ট বেঙ্গল। অঙ্কের বিচারে আশা থাকলেও, বাস্তবে তা কঠিন। আল সিবের হয়ে জাল কাঁপান অ্যাক্সেল মেয়ে ও জাহির আল-আঘরাবি।
মঙ্গলবার দুই বিদেশি স্ট্রাইকারকে বেঞ্চে রেখে আরও একবার ইন্ডিয়ান অ্যাটাকারদের উপরই আস্থা রাখেন স্প্যানিশ কোচ। গত ম্যাচের মত এদিনও এরিয়াল বলে বারবার প্রতিপক্ষ দীর্ঘকায় ডিফেন্ডারদের সঙ্গে উচ্চতায় হার মানলেন ডেভিডরা। এরইমধ্যে ডাগ-আউটের চিন্তা বাড়িয়ে পেশির চোটের কারণে ১৭ মিনিটেই মাঠ ছাড়েন আনোয়ার। চলতি মরশুমে ইস্ট বেঙ্গলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ফুটবলার এই ডিফেন্ডার। তাঁর চোট ইস্ট বেঙ্গলের পাশাপাশি জাতীয় দলের কোচ খালিদ জামিলেরও চিন্তা বাড়াল।
এই ইস্ট বেঙ্গল দলের মাঝমাঠের দুই ভরসা রশিদ ও রামিরেজ। অথচ দু’জনের কেউই ছন্দে ছিলেন না। রামিরেজকে দেখে মনে হয়, তিনি যেন মর্নিং ওয়াকে ব্যস্ত। ২০ মিনিটে ম্যাচে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন রশিদ। বক্সের মধ্যে থেকে এডমুন্ডের শট প্রথম প্রচেষ্টায় রুখে দেন আল সিব গোলরক্ষক। ফিরতি বলে বিপিনের চিপ থেকে হেড বাইরে করেন লাল-হলুদ অধিনায়ক। এরপরই ম্যাচ থেকে ক্রমশ হারিয়ে যায় ইস্ট বেঙ্গল। ছন্নছাড়া ফুটবলে বিরক্তি বাড়ে গ্যালারিতে।
দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্ট বেঙ্গলের খেলায় খুব বেশি পরিবর্তন ঘটল না। ৫০ মিনিটে সুযোগ নষ্ট না করলে ম্যাচে লিড নিতেই পারত আল সিব। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সুযোগ এসেছিল ইস্ট বেঙ্গলের সামনে। সন্দীপ মাণ্ডির সেন্টার থেকে এডমুন্ডের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অবশেষে ৫৮ মিনিটে বোধোদয় হয় হাবাসের। ডেভিডের পরিবর্তে একে লোবাকে মাঠে নামান তিনি। লাল-হলুদ জার্সিতে সীমিত সময়ের মধ্যে নজর কেড়েছেন তিনি। এদিনও ৬১ মিনিটে লোবার পাস থেকে রামিরেজের শট শরীর ছুড়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক না রুখলে, গোল পেতেই পারত ইস্ট বেঙ্গল।
মরণ-বাঁচন ম্যাচে গোল না আসায় শেষ ২০ মিনিটে লুকাসকে এনে অল-আউট আক্রমণ যান হাবাস। তবে তাতে লাভ হয়নি। উলটে ৮৫ মিনিটে অ্যাক্সেল মেয়ের গোলে লিড নেয় আল সিব (১-০)। আর সংযোজিত সময়ে জাহির আল-আঘরাবির গোলে ইস্ট বেঙ্গলের যাবতীয় আশায় জল ঢালে ওমানের ক্লাবটি (২-০)।
ইস্ট বেঙ্গল: লাচেনপা, লালচুংনুঙ্গা, আনোয়ার (সন্দীপ), জিভুলিচ, জয়, জিকসন (রোহিত কুমার), রশিদ, বিপিন (হার্দিক), রামিরেজ, এডমুন্ড (লুকাস) ও ডেভিড (লোবা)।