তাপস কাঁড়ার: সবার জীবনে যদি একটা করে জাদু প্রদীপ থাকত, তাহলে জীবনটা কেমন বদলে ফেলা যেত। কিন্তু সেই জাদু প্রদীপ তো আর খেলনা নয়, যে সকলের কাছে থাকবে! আরব দেশের আগ্রাবা শহরে এই জাদু প্রদীপ ছিল। সেই প্রদীপ ঘিরে আজব গল্প আলাদিন। এই জাদু প্রদীপ এমন জায়গায় আছে তা উদ্ধার করা বেশ কঠিন ব্যাপার। যদিও রাজাদের কাছে কোনও কাজই অসম্ভব নয়। তার জন্য চাই সৎ সাহসী মানুষ। সুলতানের মন্ত্রী জাফর আদেশ দিয়েছে, শহরের মধ্যে থেকে এমন একজন মানুষ খুঁজে বের করতে হবে। যার না থাকবে লোভ, না থাকবে ধনরত্নের লালসা। শহরের বোহেমিয়ান চালচুলোহীন এক ছোকরা আলাদিন। যে বেঁচে থাকার জন্য চুরি করলেও লোভ শব্দটা তার অভিধানে নেই। চালচুলোহীন আলাদিনকে আগ্রাবার সান্ত্রীরা পাকড়াও করে নিয়ে আসে। জাফর পরীক্ষা করে দেখে বলে, এই ছেলেকে দিয়েই কাজ হবে।
আলাদিনের গল্প নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই রূপকথার গল্পকে মঞ্চায়ন করেছে ‘নাটকওয়ালা কলকাতা’। আরব্য রজনীর কল্পনার মায়াময়তায় মঞ্চ জুড়ে আলাদিনের জীবনচরিত। সানি চট্টোপাধ্যায়ের রচনা ও নির্দেশনায় নতুন নাটকটি সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল অ্যাকাডেমিতে। নাটক জুড়ে ছিল সিনেম্যাটিক সিকোয়েন্স। তার সঙ্গে তারুণ্যের জয়গান। প্রত্যেকের অভিনয় চিত্তাকর্ষক। আলবাবাঘা (পাখি) চরিত্রে অসাধারণ কৌশিক খাঁ। সারা নাটক জুড়ে পাখির সুরে কথা বলার কঠিন কাজ অবলীলায় সামলেছেন। নাটকের নায়ক আলাদিন (শুভ্রদীপ বণিক)। চমৎকার অভিনয় করেছেন। রাজকুমারী বদর উল বদুর (নিশা হালদার) নাটকের অন্যতম এক চরিত্র। গালিচার (জ্যোতির্ময় পণ্ডিত) উড়ে চলার ছন্দময়তা আকর্ষণীয়। চোখ বন্ধ করলে দর্শকরাও যেন ভাসতে থাকেন। জাফর (অরিন্দম সরদার) এই নাটকের ভিলেন। গল্প বিক্রেতা ও জিনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক তথা অভিনেতা সানি চট্টোপাধ্যায়।
নাটকে প্রজেকশন ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে আরব দেশের নানা মুহূর্তকে দর্শকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। আবহ, মঞ্চ পরিকল্পনা ও ছবির মধ্যে দিয়ে দর্শক হাজির হয়ে যান আলাদিনের রূপকথার জগতে। প্রেম, ভালোবাসা, সততার জয়কে প্রতিষ্ঠিত করে এই নাটক।