Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যমগ্রামের ভোটারদের জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার বার্তা যাচ্ছে ফোনে, নির্বাচনি প্রচারে প্রযুক্তির চমক রথীন ঘোষের

সব ভোটারের দোরে পৌঁছানো যায়নি। তাই মোবাইলেই কড়া নাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী! দ্বিতীয় দফার ভোটের কয়েকদিন আগে মধ্যমগ্রামে প্রচারের রং পাল্টে ফেললেন তৃণমূলের রথীন ঘোষ।

মধ্যমগ্রামের ভোটারদের জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার বার্তা যাচ্ছে ফোনে, নির্বাচনি প্রচারে প্রযুক্তির চমক রথীন ঘোষের
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সব ভোটারের দোরে পৌঁছানো যায়নি। তাই মোবাইলেই কড়া নাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী! দ্বিতীয় দফার ভোটের কয়েকদিন আগে মধ্যমগ্রামে প্রচারের রং পাল্টে ফেললেন তৃণমূলের রথীন ঘোষ। সকাল-বিকাল তপ্ত রোদে বাড়ি-বাড়ি ঘোরা, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৈঠক, পঞ্চায়েতে রাত পর্যন্ত কর্মসূচি—সবই হয়েছে। তবু সব দরজায় কড়া নাড়া সম্ভব হয়নি। সেই ফাঁক ঢাকতেই এই ‘হাইটেক ঝাঁপ’। নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা ভোটের আবেদন পৌঁছে যাচ্ছে ভোটারদের মোবাইলে। সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে উন্নয়নের ভিডিয়ো-ছবিও। কীভাবে এই প্রচার হচ্ছে? দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, একে বলা হচ্ছে কলিং প্রচার। ভোটারদের ফোন নম্বরের ডেটাবেস তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় রথীনের নিজস্ব রেকর্ড করা ভয়েস মেসেজ পাঠানো হচ্ছে ধাপে ধাপে। ফোন ‘রিসিভ’ করলেই ভোটদানের আরজি শুনতে পাচ্ছেন ভোটাররা। রথীনের সরাসরি আবেদন, ‘আপনার কাছে পৌঁছাতে পারিনি। ভোটের দিন আমাকে সহযোগিতা করুন। জোড়াফুলে ভোট দিন।’ এর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ভোটারদের নম্বার নিয়ে তৈরি হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সেখানে গত পাঁচ বছরে রাস্তা, নিকাশি, আলো, নাগরিক পরিষেবার ছবি ও ছোটো ভিডিয়ো তুলে ধরা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১১ থেকে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীনবাবু। তৃণমূল ফের তাঁকে প্রার্থী করায় চতুর্থবারের জন্য বিধায়ক হওয়ার হাতছানি তাঁর সামনে। মনোনয়নের পর থেকে পুরসভা ও পঞ্চায়েত ধরে ধরে চাটাই বৈঠক, বুথভিত্তিক মিটিং, কর্মীদের সঙ্গে টানা সমন্বয়—সংগঠন গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে আগেভাগেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকালে বাড়ি-বাড়ি জনসংযোগ, বিকালে পঞ্চায়েত এলাকায় মিছিল-সভা হয়েছে। কিন্তু বিস্তীর্ণ এলাকার প্রতিটি গলি, প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছানো যে দুঃসাধ্য, মানছেন শাসক দলের এই বর্ষীয়ান নেতা। সেখানেই ভরসা প্রযুক্তি। 

Advertisement

তবে এই ‘মোবাইলমুখী’ প্রচারের পিছনে একাধিক হিসাব কাজ করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রথমত, সময়ের অভাবে প্রচারের শেষ ল্যাপে প্রতিটি বাড়িতে যাওয়া অসম্ভব। গরমের জন্য প্রচারের গতি কমছে। তাছাড়া শহর-গ্রামে স্মার্টফোন ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফলে ডিজিটাল বার্তার নাগালও বেশি। সব মিলিয়ে ‘লাস্ট-মিনিট কানেক্ট’ নিশ্চিত করতেই এই কৌশল। রথীনের কথায়, ‘প্রযুক্তির যুগে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উপায় বদলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সবার কাছে যেতে না পারলেও আমার কণ্ঠ, আমার কাজের ভিডিয়ো পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিটি ভোটারের কাছে। এটাও এক ধরনের জনসংযোগ।’ তাঁর আরও দাবি, ইতিমধ্যে লক্ষাধিক ভোটারের কাছে পৌঁছে গিয়েছে ভোটের বার্তা। তবে তৃণমূলের এই তৎপরতাকে ততটা গুরুত্ব দিতে নারাজ অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী আইএসএফ। তাদের প্রার্থী প্রিয়াংকা বর্মন বলছেন, ‘মোবাইলে বার্তা পাঠালেই মানুষের মন জেতা যায় না। মানুষ কাজ দেখে ভোট দেয়। যতই প্রযুক্তি ব্যবহার হোক, এবার মধ্যমগ্রামে ঘাসফুল খামে বন্দি হবেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ