নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পিসিশাশুড়ি খুনের পরদিনই বউবাজারে গিয়ে সোনার গয়নার অর্ডার দিয়েছিল মা আরতি ও মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষ। সেদিন মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরেই তারা গিয়েছিল স্থানীয় এক সোনার দোকানে। নিহত সুমিতা ঘোষের শরীর থেকে সোনার গয়না খুলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকায়। এর মধ্যে দোকান থেকে নগদে ৩২ হাজার টাকা নেয় মা ও মেয়ে। বাকি টাকায় তিন ধরনের সোনার গয়না কেনে। সোনা বিক্রি ও কেনার কাগজপত্র হাতে পেয়ে মধ্যমগ্রামের ওই সোনার দোকানদারকে জেরা করে তা নিশ্চিত হয়েছে পুলিস। অন্যদিকে, পুলিসি হেফাজতের মেয়াদ শেষ না হতেই শনিবার বারাসত আদালতে ধৃত আরতি ঘোষকে তোলা হলে চারদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আর পুলিসি হেফাজতে রয়েছে ফাল্গুনী।
জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশ পল্লিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি খুন হন সুমিতা ঘোষ। এর চারদিন আগে তারা সুমিতার সঙ্গে বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে যান পিসি শাশুড়ির প্রাক্তন স্বামী সুদীপ্ত ঘোষের কাছে। সঙ্গে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের একজন আইনজীবীও। সমুদ্রগড়ের একটি পেট্রল পাম্পে সুদীপ্তর সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাদের। সেখানে সুমিতা ও সুদীপ্তর কথাও হয়েছে। ধৃতরা পুলিসকে জানিয়েছে, সুমিতা প্রাক্তন স্বামীকে প্রস্তাব দিয়েছিল একসঙ্গে থাকার। ১৪ বছর তো হল, কারও কিছুই লাভ হল না। উত্তরে প্রাক্তন স্বামী বলেন, এখন এনিয়ে ভাবছি না। পরে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে দেখব। তখন সুমিতা প্রাক্তন স্বামীর ফোন নম্বর চান। কিন্তু সুদীপ্ত দেননি। বলেন, তোমার নম্বরটা আমাকে দাও। আমার যখন মনে হবে যোগাযোগ করব।
পুলিস জেরায় আরও জেনেছে, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীর কাছ থেকে দু’টি অভিযোগপত্র বানিয়েছিল ফাল্গুনী। সেই অভিযোগপত্র দু’টি ভাড়া বাড়িতেই আছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে গিয়ে পুনর্নির্মাণের সময় দু’টি অভিযোগপত্র উদ্ধার হবে।
এদিকে ২৩ ফেব্রুয়ারি খুনের পর পিসি শাশুড়ির দেহ ঘরে রেখেই ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম ফাল্গুনী ও আরতি কলকাতায় যায়। বড়বাজারে থেকে বড় ব্যাগ কিনে তারা যায় সোনার দোকানে। সেখানে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার সোনার গয়নার অর্ডার দিয়েছিল ফাল্গুনী। অর্ডারের বিল হয় নিহত সুমিতার নামেই। আর নিহতের মোবাইল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম জমাও দেয় ফাল্গুনী। বউবাজার থেকে ফিরে মা ও মেয়ে মধ্যমগ্রামের একটি সোনার দোকানে গিয়েছিল। দেহ থেকে খোলা সোনার গয়না বিক্রি হয় ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকায়। যদিও মধ্যমগ্রামের সোনার দোকানের মালিক জানিয়েছেন, নিয়ম মতোই আমি সোনা কিনেছিলাম।