নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: মধ্যমগ্রামের গীতশ্রী মোড় থেকে ভ্যানে দোলতলা মোড়। সেখান থেকে সাদা ট্যাক্সি ধরে কলকাতার কুমোরটুলি মোড়। ট্যাক্সির ডিকিতে রাখা নীল ব্যাগ। এভাবেই চাঞ্চল্যকর খুন কাণ্ডের পুনর্নির্মাণ হল বৃহস্পতিবার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: মধ্যমগ্রামের গীতশ্রী মোড় থেকে ভ্যানে দোলতলা মোড়। সেখান থেকে সাদা ট্যাক্সি ধরে কলকাতার কুমোরটুলি মোড়। ট্যাক্সির ডিকিতে রাখা নীল ব্যাগ। এভাবেই চাঞ্চল্যকর খুন কাণ্ডের পুনর্নির্মাণ হল বৃহস্পতিবার।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি সাদা ট্যাক্সি চড়ে ১৯ কিমি পেরিয়ে কুমোরটুলি ঘাটে এসে পৌঁছেছিলেন খুনে অভিযুক্ত ফাল্গুনী ঘোষ ও আরতি ঘোষ। বৃহস্পতিবার তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণে নেমে সেই সাদা ট্যাক্সিতেই চড়ানো হয় দুই অভিযুক্তকে। দোলতলা মোড়ে কীভাবে ট্যাক্সির ডিকিতে ব্যাগ ঢোকানো হয়েছিল? কে ঢুকিয়েছিল? কোন কোন পথে ট্যাক্সি কুমোরটুলি ঘাটে আসে? কে ট্যাক্সি থেকে ব্যাগ নামায়? ট্যাক্সি থেকে নামার পর কোন পথে তাঁরা হাঁটা শুরু করে? ব্যাগ কে টানছিল? সব প্রশ্নের উত্তর পুনর্নির্মাণ চলাকালীন খোঁজার চেষ্টা করেছে পুলিস। মূল ঘটনার সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মিলেছে বলে পুলিস সূত্রের দাবি। এদিন দুপুরে ধৃত ফাল্গুনী এবং তাঁর মা আরতিকে নিয়ে দক্ষিণ বীরেশপল্লির বাড়িতে যায় মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে বাড়ির তালা খুলে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় ফাল্গুনী ও আরতিকে। কোন জায়গায় খুন করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, তা পুলিসকে দেখায় দুই অভিযুক্ত। খুনের পর মেয়ে ও মা বাড়ি থেকে কোন গলির মুখে ভ্যানের জন্য অপেক্ষায় ছিল, সেই জায়গাও এদিন তারা দেখিয়েছে পুলিসকে। পুনর্নির্মাণের সময় ওই ভ্যান চালককেও ডাকা হয়েছিল। ভ্যান চালক ফাল্গুনী এবং আরতিকে দেখিয়ে বলেন, এরাই সেদিন দাঁড়িয়েছিলেন। নীল রংয়ের ব্যাগ বের করে ভ্যান চালকের সাহায্যে তা ভ্যানে তোলা হয়েছিল। ভ্যানে ব্যাগ তোলার পর ফাল্গুনী সামনে বসে। আর আরতি বসে ভ্যানের পিছনের দিকে। নীল রংয়ের ব্যাগ রাখা ছিল ভ্যানের মাঝখানে। এদিন একইভাবে মা এবং মেয়ে কোন পথ ধরে দোলতলায় পৌঁছেছিল সেখানে ভ্যান থেকে কীভাবে ব্যাগ নামিয়ে ভাড়ার ট্যাক্সির ডিকিতে তুলেছিল, এদিন তাও পুনর্নির্মাণ করে ফাল্গুনী এবং আরতি দেখিয়েছে পুলিসকে। এরপরেই মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস ওই ট্যাক্সি করে ফাল্গুনী এবং আরতিকে নিয়ে সোজা চলে যান কুমোরটুলি গঙ্গার ঘাটে। শেষে দু’জনকেই সংশোধনাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।