Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যমগ্রামে বিস্ফোরণকাণ্ড: এবার অন্তত লালিমার সংসারে সুখ আসবে, আশাবাদী বৃদ্ধ বাবা

‘এবার মেয়েটা একমনে সংসার করবে। স্বামীর সঙ্গে অশান্তি করে আর আমাদের কাছে এসে কান্নাকাটি করবে না। কারণ, ওদের সম্পর্কের মাঝে ঢুকে যাওয়া ওই যুবক আর নেই!’

মধ্যমগ্রামে বিস্ফোরণকাণ্ড: এবার অন্তত লালিমার সংসারে সুখ আসবে, আশাবাদী বৃদ্ধ বাবা
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘এবার মেয়েটা একমনে সংসার করবে। স্বামীর সঙ্গে অশান্তি করে আর আমাদের কাছে এসে কান্নাকাটি করবে না। কারণ, ওদের সম্পর্কের মাঝে ঢুকে যাওয়া ওই যুবক আর নেই!’ বুধবার বাড়ির সামনে বসে এহেন আশার কথা বারবার বলছিলেন মধ্যমগ্রামে বিস্ফোরণকাণ্ডে মৃত সচ্চিদানন্দ মিশ্রর প্রেমিকার বাবা ‘এক্কা’। একইসঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। ২৫ বছরের তরতাজা যুবকের বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে, তা কোনওভাবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ইনস্ট্রাগ্রামের মাধ্যমে এক বছর আগে লালিমা’র (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে আলাপ হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বাস্তি জেলার যুবক সচ্চিদানন্দ মিশ্রর। আলাপের কিছুদিন পর থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। স্ত্রীর এই প্রেমপর্ব ভ্রূণক্ষরেও টের পাননি তাঁর স্বামী ‘গাজি’। কিন্তু স্ত্রীর গতিপ্রকৃতিতে দানা বেঁধেছিল সন্দেহ। জিজ্ঞাসা করায় লালিমা জানিয়েছিলেন, সচ্চিদানন্দ তাঁর ‘ভালো বন্ধু’ । গত সাতমাস আগেই যোগী রাজ্যের ওই যুবকের সঙ্গেই স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়টিতে নিশ্চিত হন গাজি। এরপর শুরু হয় তুমুল অশান্তি। ফলে বিষয়টি কমবেশি  জানা ছিল, মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাস পাড়ার বাসিন্দাদের অনেকের। আর মাঝেমধ্যে সেই অশান্তির আঁচ এসে পড়ত দাসপাড়ায় লালিমার বাপের বাড়িতে। মাস দুই আগে সচ্চিদানন্দ প্রেমিকার বাড়িতে এসে দু’দিন ছিলেন। সেবারও অশান্তির আবহে স্ত্রী এবং ছেলেকে ছেড়ে গাজি দিদির বাড়িতে গিয়ে উঠেছিলেন। লালিমাও ছেলেকে নিয়ে দাসপাড়ায় বাপের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছিলেন। মেয়ে জামাইয়ের লাগাতার অশান্তির কারণে দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয়েছে এক্কা পরিবারকে। এদিকে, প্রেমের এই সম্পর্কে পথের কাঁটা প্রেমিকার স্বামীকে দুনিয়া থেকে সরাতেই আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওড়াতে চেয়েছিল আইটিআই-ফিটার সচ্চিদানন্দ। মধ্যমগ্রামে গত ১৬ আগষ্ট হাজির হন সচ্চিদানন্দ। কিন্তু প্রেমিকার স্বামীকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার আগে মধ্যমগ্রামের ফ্লাইওভারের নীচে রবীন্দ্র মুক্তমঞ্চে বসে নাড়াচাড়া করার সময় ভুল বোতামে চাপ পড়ে যাওয়ায় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় প্রেমিকের। সেই ঘটনার তিনদিন পর বুধবার দাসপাড়ার বাড়িতে লালিমার বাবা বলেছেন, একজন বাবা হয়ে এক তরতাজা যুবকের মৃত্যুতে খুবই খারাপ লাগছে। মেয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তেমন ছিল না। কিন্তু অশান্তি হলে আমাদের কাছে এসে কান্নাকাটি করত। উত্তর প্রদেশের ওই ছেলের জন্য মেয়ের সংসারে অশান্তি হতো। এখন অবশ্য সেই দিক থেকে নিশ্চিন্ত লাগছে। ওরা এবার সুখে থাকুক, এটাই চাই!

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ