সংবাদদাতা, আরামবাগ: আরামবাগ মহকুমা প্রাচীন জনপদ। এখানে প্রাচীন পারিবারিক পুজোর ছড়াছড়ি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাধবপুর গ্রামের রায় পরিবারের প্রায় ৩০০ বছরের পুজো। এখানে প্রাচীন রীতি ও রেওয়াজ মেনে পূজিত হয়ে আসছেন মা দুর্গা। কথিত আছে, রাজা রণজিৎ রায়ের বংশধর শান্তিরাম রায়কে একদিন মা দুর্গা স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেন, তোরা বাড়ির ভেতর মন্দির প্রতিষ্ঠা করে ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার পূজার্চনা করলে সুখ সমৃদ্ধি আসবে। সেই স্বপ্নাদেশ পেয়ে শান্তিরাম রায় বাড়ির ভেতর একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে নিয়ম নীতি মেনে মা দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, মহালয়ার আগে স্থানীয় হরিসায়র পুকুর থেকে ঘট তুলে পুজো শুরু করা হয়। ঘট ওঠার পর থেকে দশমী পর্যন্ত তিনজন ব্রাহ্মণ এই বাড়িতেই থেকে পুজো অর্চনা করেন। এক মেটে তৈরি হয় মা দুর্গা, মহিষাসুর, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মূর্তি। এই মূর্তির দু’ পাশে থাকেন জয়া ও বিজয়া। চালচিত্রের নকশার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এই বাড়ির পুজোতে। এই প্রসঙ্গে উত্তরসূরী রেবা রায় এবং মানসকুমার রায় বলেন, বোধনের প্রথম দিন অর্থাৎ ২৯ ভাদ্র স্থানীয় হরিসায়ের পুকুর থেকে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে ঘট উত্তোলন করা হয়। এরপর ওইদিন একটি মিশকালো পাঁঠা বলি হয়। তারপর প্রধান পুরোহিত অন্য দুই পুরোহিতকে সঙ্গে নিয়ে ভাগবৎ পাঠ করেন। এরপর দ্বিতীয়ার দিন মা বিশালাক্ষী মাতার উদ্দেশ্যে একটি ঘট উত্তোলন করা হয়। ষষ্ঠীর দিন হয় বেলবরণ। এবছর ষষ্ঠীর দিন থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে বসবে নহবত। এই নহবত চলবে দশমী অবধি। সপ্তমীর দিন ঘট তুলে কলা বউ নিয়ে আসা হয়। অষ্টমীর দিন হয় সন্ধিপুজো। ওই দিন একটি নিঁখুত কালো পাঁঠা, আখ, ছাঁচি কুমড়ো বলি দেয়া হয়। নবমীর দিন এই বাড়ির দুর্গাপূজায় ৬০ থেকে ৬৫টি পাঁঠা বলি দেয়া হয়। গ্রামের মানুষরা এই পাঁঠাগুলি বলিদানের জন্য মন্দিরে দিয়ে আসেন। ওই দিন আমাদের পরিবারের তরফ থেকে ব্রাহ্মণ ভোজন করানো হয়। দশমীর দিন নিয়ম মেনে মা দুর্গার বিসর্জন দেওয়া হয়। এই বাড়ির পুজো দেখতে গ্রামের বহু মানুষ ভিড় জমান। আমাদের পরিবারের অনেকে চাকরি সূত্রে কলকাতা, আমেরিকা সহ দূরে দূরে বসবাস করেন। তাঁরাও পুজোর এই চারটে দিনে দেশের বাড়ি ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে একত্রে আনন্দ ভাগ করে নেন।



