রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: রাজার শহর কোচবিহারে মহারাজাদের কুলদেবতা মদনমোহন। রাজ আমল থেকেই মহারাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হওয়া রথযাত্রা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় কোচবিহারে। তবে, অন্যান্য জায়গার মতো কোচবিহারে রথযাত্রায় রথে থাকেন না জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। রাজ আমল থেকেই কোচবিহারে রথে বিরাজ করেন কোচবিহারবাসীর প্রাণের ঠাকুর রাজ পরিবারের কুলদেবতা মদনমোহন। শতাব্দী প্রাচীন সেই রীতি আজও অটুট, অম্লান।
রথের দিন মদনমোহন মন্দির থেকে রথে চেপে গুঞ্জবাড়ি ডাঙ্গরআই মন্দিরে মাসির বাড়িতে যান মদনমোহন। সেদিন থেকেই সেখানে থাকাকালীন সাতদিন ধরে চলে বিশাল রথের মেলা। আর কোচবিহারের মন্দিরে মদনমোহন উল্টো রথে বাড়িতে ফিরে আসার পরেই সেই মেলা শেষ হয়। প্রতি বছর কোচবিহার শহর তো বটেই জেলার পাশাপাশি বাইরে থেকেও প্রচুর ভক্তরা রথযাত্রায় মদনমোহন বাড়িতে আসেন। মদনমোহনের রথের রশিতে টান দিতে সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন ভক্তরা। করোনা অতিমারির সময়েও মদনমোহনের রথযাত্রা বন্ধ হয়নি। নিয়ম মেনে রথে চেপে মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মদনমোহনকে। তবে, এবার শতাব্দী প্রাচীন রথের বদলে নতুন রথে চেপে মাসির বাড়ি যাবেন মদনমোহন। আগের বছরগুলিতে যে কাঠের রথে চেপে মদনমোহন তার মাসির বাড়ি যেতেন সেই পুরনো রথটি বদলে ফেলা হচ্ছে। কারণ, রথযাত্রার আগে রথটি প্রতিবছরই সংস্কার করতে হতো। ফলে এবার প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নতুন রথ নির্মাণ করার। সেইমতো জলদাপাড়ার জঙ্গল থেকে কাঠ নিয়ে এসে দক্ষ শ্রমিক দিয়ে রথ বানানো হয় গুঞ্জবাড়িতে।
মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, কোচবিহারে রথযাত্রায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বদলে মদনমোহনকে রথে চড়ানো হয়। রাজ আমলে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই মদনমোহন রথে চড়ে মাসির বাড়ি যান। কোচবিহারে মদনমোহনই রথের প্রধান আকর্ষণ। এটি কোচবিহারের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা, যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। - ফাইল চিত্র।