


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: সকালে পদ পেলেন মদন মিত্র। বিকালে পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। রবিবার ঘটনাবহুল হয়ে থাকল তৃণমূলের অন্দরমহল! এদিন তৃণমূলের তরফে ঘোষণা করা হয়, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বর্ষীয়ান নেতা তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে দলের দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে। গুরুদায়িত্ব পেয়েই সাংগঠনিক কাজে নেমে পড়েছেন মদন। এই আবহে আজ, সোমবার কালীঘাটে দলনেত্রীর বাড়িতে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পুরসভাগুলির তৃণমূল কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে থাকবেন মদনবাবু। রাজ্যে পালাবদলের পর গত কয়েকদিনে ভাটপাড়া, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, নৈহাটি, পুরসভায় লাইন দিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলাররা ইস্তফা দিয়েছেন। এই অবস্থায় দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিভিন্ন পুরসভার কাউন্সিলারদের একত্রিত রাখতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন মদন। কেন মদনের উপর এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করলেন নেত্রী? তৃণমূলের বড়ো অংশ মনে করছে, প্রথমত, মমতার প্রতি মদনের আস্থা কখনও টাল খায়নি। নেত্রীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা তিনি। রাজনীতির অলিগলিও তাঁর নখদর্পণে। দ্বিতীয়ত, কল্যাণী থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত একমাত্র কামারহাটিতে জিতেছেন তৃণমূলের মদন। দমদম লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেও একমাত্র এই আসনটি পেয়েছে তৃণমূল। তৃতীয়ত, তৃণমূলের তরফে বারাকপুর-দমদমের সভাপতি ছিলেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক। কিন্তু তিনিও তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের ৬টি বিধানসভা আসনে দলকে জেতাতে পারেননি। তাই পার্থর দায়িত্ব কমিয়ে মদনকে বাড়তি গুরুত্ব দিলেন মমতা।
বিকালে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। যদিও সাংসদ পদ এবং তৃণমূলের সদস্যপদ ছাড়েননি তিনি। সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে দেন মমতা। তার এক-দু’দিনের মধ্যে কাকলিকে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটিগরির নিরাপত্তা দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এদিন মধ্যমগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কাকলি বলেন, ‘অস্বচ্ছতা, দুর্বৃত্তায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, অনৈতিকতার সঙ্গে সহমত ছিলাম না। পরাজয়ের দায়ভার নিয়ে ইস্তফা দিয়েছি।’ পাশাপাশি পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককে ‘ভুঁইফোড়’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের হাল ধরলে সংগঠন ফের শক্তিশালী হবে।
এদিন দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের যুব সভাপতি পদ থেকে সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রীদীপ দাসকে। গত বছর দক্ষিণ কলকাতা ল’কলেজে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় মনোজিৎ মিশ্র। অভিযোগ ওঠে, মনোজিতের রাজনৈতিক ‘দাদা’ ছিলেন সার্থক। তাঁকে পদ থেকে সরাল তৃণমূল।