


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পালমোনারি অ্যালভিওলার প্রোটিনোসিস। অসুখটি বিরল ও প্রাণঘাতী। এতে ফুসফুসের মধ্যে সাদা এক ধরনের প্রোটিনজাতীয় তরল জমে। রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। অবস্থা এমন হয় যে, অক্সিজেন ছাড়া দু’পাও চলতে পারে না। এই রোগের চিকিৎসা একটাই। পর্যায়ক্রমে দু’টি ফুসফুস ধুয়ে জমা তরল বের করা।
যে সে জলে ফুসফুস ধুলে হবে না। ধুতে হবে শরীরের তাপমাত্রার (৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) সমান উষ্ণ স্যালাইনে। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে বহরমপুরের এক ৩৪ বছরের গৃহবধূর ফুসফুস এইভাবে ধুয়ে প্রাণ বাঁচালেন এন আর এস মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার পালমনোলজি বিভাগে অত্যন্ত ঝুঁকির এই কাজ শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ। চলেছে দুপুর তিনটে পর্যন্ত। বিশেষ ধরনের টিউব দিয়ে বাম দিকের ফুসফুসটি ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে সচল রেখে ডান দিকের ফুসফুস ধোয়া হয় ২২টি ৫০০ এমএল স্যালাইন দিয়ে। ধীরে ধীরে ফুসফুসে জমে থাকা সাদা তরলের রং পাল্টায়। সপ্তাহ তিনেক আগে প্রথম এন আর এস’এ দেখানোর সময় রোগিণীর স্যাচুরেশন ছিল আশির নীচে। ধোয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর স্যাচুরেশন বেড়ে হয় ৯৫-৯৬। কিছুদিন পর রোগিণীর বাম দিকের ফুসফুসটিও একইভাবে ধোয়া হবে। পালমনোলজি, কার্ডিওথোরাসিক, অ্যানাসথেসিয়া সহ একাধিক বিভাগ যৌথভাবে এতে অংশ নেয়। ছিলেন পালমনোলজি’র প্রধান ডাঃ জয়দীপ দেব সহ গোটা টিম। হাসপাতালের চিকিৎসক মহল সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। এই চিকিৎসা প্রক্রিয়াটির নাম হল, ‘লাং লাভাজ’। বেসরকারি জায়গায় তা করাতে মোটামুটি ৪০ লক্ষ টাকার মতো খরচ পড়ে বলে চিকিৎসা মহল সূত্রে জানান গিয়েছে।