বেলজিয়াম-৩ : সেনেগাল-২
বেলজিয়াম-৩ : সেনেগাল-২
অবিশ্বাস্য! আর্জের টিনটিনের মতোই বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল ম্যাচের পরতে পরতে নাটকীয় মোচড়। ২ গোলে পিছিয়েও রুদ্ধশ্বাস কামব্যাক রুডি গার্সিয়ার দলের। ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা পরেও যেন ঘোর কাটছে না। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে দ্য রেড ডেভিলসের প্রতিপক্ষ আমেরিকা। নাছোড় মনোভাবকে সঙ্গী করেই পরের রাউন্ডে ডি’ব্রুইনরা। তাই এমন পারফরম্যান্সের পর ট্রাম্পের দেশের বিরুদ্ধেও বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে লুকাকুরা।
৪-৩-৩ ফর্মেশনের সেনেগাল বরাবর আক্রমণাত্মক। সামনে পাস খেলতে পছন্দ করে। বেলজিয়ামের ডিফেন্সিভ থার্ডে চাপ বাড়াল তারা। ২৪ মিনিটে দিয়ারার গোলের (০-১)আগে বল পোস্টে প্রতিহত হয়। গোলরক্ষক কুর্তোয়ার কিছু করার ছিল না। বিরতির পর ২-০। দায় এড়াতে পারে না বেলজিয়াম রক্ষণ। ইসমাইলার ঘাড়ের কাছে দুই স্টপার। তা সত্ত্বেও বুকে বল রিসিভ করে জাল কাঁপাল। এক্ষেত্রেও নড়ার সময় পায়নি কুর্তোয়া। অনেকের মতো সেনেগাল কোচ থিয়াও হয়তো ভেবে নিয়েছিলেন ম্যাচ শেষ। অন্যদিকে, বেলজিয়ামের কিছুই হারানোর ছিল না। বড়ো চেহারার লুকাকু এদিন অনবদ্য। লম্বা স্ট্রাইডে বিপক্ষ গোলমুখে পৌঁছে যাচ্ছিল। ৮৬ মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে শরীরে আড়াল করে জাল কাঁপাল (২-১)। সেনেগাল রক্ষণ ঝাঁপ ফেলার বদলে এতেই কেঁপে যায়। ঠিক ১৬১ সেকেন্ড পরেই গোটা দেশের ত্রাতা হয়ে উঠল টিয়েলম্যানস। তবে সেনেগাল গোলরক্ষক দায় এড়াতে পারে না। গোললাইন ছেড়ে বেরনোর আগে সময়ের ভুলচুকেই সর্বনাশ (২-২)। এই গোলই টনিকের কাজ করল। এরপর অদ্ভুতভাবে দলের হৃদপিণ্ড সাদিও মানেকে তুলে নিল সেনেগাল। এই সিদ্ধান্তও বিস্ময়কর। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে মেগা বিতর্ক। টিয়েলম্যানস বলের কাছে পৌঁছানোর আগে কামারার ট্যাকলে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। এক্ষেত্রেও ঠান্ডা মাথায় স্পটকিক কাজে লাগায় সেই টিয়েলম্যানস (৩-২)। এই পেনাল্টির সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ সেনেগাল শিবিরে। তবে রেফারি কিন্তু দীর্ঘসময় ক্যামেরায় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বওয়া উচিত নয়। তাছাড়া বিতর্কহীন বিশ্বকাপ কি কেউ দেখেছেন?